বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েল শব্দ বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা সরকারের নীতিহীন অবস্থান। ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা নগরী যখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে “ইসরায়েল ভ্রমণের” ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ায় বিশ্ববিবেক হতাশ হয়েছে।’ গতকাল সোমবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ২৩ মে ফিলিস্তিনবিরোধী ওই সিদ্ধান্তে ইসরায়েল সরকারের অভিনন্দন-টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে তা অস্বীকার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সরকারের অবস্থান ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা গোটা বিষয়ে সরকারের নীতিহীন অবস্থান বেরিয়ে এসেছে।’
সরকারের তরফ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে প্রথমেই যে উদ্যোগটা গ্রহণ করা উচিত ছিল যেটা হচ্ছে সরকারপ্রধানের উদ্যোগ। এখন আপনারা বলেন যে, সরকারপ্রধান যিনি, তিনি নাকি বিশ্বনেতা। তিনি তো উদ্যোগ নিতে পারতেন সমস্ত মুসলিম দেশকে আহ্বান জানিয়ে যে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের পক্ষ দাঁড়াতে। সরকারপ্রধান তো সরকারের পক্ষে অনেক বড় রকমের সহযোগিতা পাঠাতে পারতেন, সাহায্য পাঠাতে পারতেন ফিলিস্তিনিদের কাছে।’
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে জো বাইডেনের বক্তব্য তাৎপর্যময় : সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ দুই রাষ্ট্রই একমাত্র সমাধান। সংঘাতের মূল কেন্দ্র জেরুজালেম নগরে আন্তঃসাম্প্রদায়িক লড়াই বন্ধ করার জন্য জো বাইডেনের উদাত্ত আহ্বান সংকট সমাধানে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মার্কিন গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকদের দৃঢ় সমর্থনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। বিএনপি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিরসনে এ ধরনের সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, জাতিসংঘের প্রস্তাব এবং অসলো চুক্তির আলোকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা বাস্তবায়নের পথ সুগম করাই হচ্ছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। চলমান হত্যাকা-কে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ায় আনার উদ্যোগসহ দুই রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন জাতিসংঘের নেতৃত্বে অতিসত্বর কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই।’
সমর্থন অব্যাহত ও যুদ্ধাহতদের জন্য ওষুধ পাঠাবে বিএনপি : সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ওআইসি, জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন-ন্যামসহ মুসলিম দেশসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকার ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থানে অটুট ছিলেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সেই একই নীতি ও অবস্থান অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি নাগরিকদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার আগপর্যন্ত সার্বিকভাবে তাদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। আমাদের দল ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে যুদ্ধাহতদের জন্য ওষুধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
