দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজীকে সমাহিত করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পরিচালনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. হাসান কবীর।
এর আগে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মরদেহ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে রাখা হয়। একাডেমির সচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এএইচএম লোকমানের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রয়াত মহাপরিচালকের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। এ সময় হাবীবুল্লাহ সিরাজীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং সচিব মো. বদরুল আরেফীনের নেতৃত্বে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা পর্যায়ের অঙ্গসংগঠন কবি ও লেখক হাবিবুল্লাহ সিরাজীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অসীম কুমার উকিল, আফজাল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সায়েম খান, হুমায়ূন কবীর ঢালী ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ ছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, নির্মল রঞ্জন গুহ এবং আফজাল বাবুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, গোলাম কুদ্দুছের নেতৃত্বে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কবি মুহাম্মদ সামাদ, তারিক সুজাত, হারিসুল হক, আমিনুর রহমান সুলতানের নেতৃত্বে জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, সহসভাপতি খান মাহবুব, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাবেক সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন, আল নাহিয়ান খান জয় ও সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার নেতৃত্বে রাইটার্স ক্লাব বাংলাদেশ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্পী সংসদ, ছোটকাগজ শালুক, মাহবুবুল হক শাকিল সংসদ, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, চলচ্চিত্রজন জাঁ নেসার ওসমান, অ্যাডভোকেট সাহিদা বেগম, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, রেজানুর রহমান, শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন, রহীম শাহ, কাজল ঘোষ প্রমুখ।
হাবীবুল্লাহ সিরাজীর প্রয়াণে শোকবাণী দেন বাংলা একাডেমি নেতৃবৃন্দ।
শোকবাণীতে বলা হয়, হাবিবুল্লাহ সিরাজীর প্রয়াণে বাংলা একাডেমি পরিবার শোকস্তব্ধ। তিনি বাংলা কবিতায় এক বিশিষ্ট নাম। তার কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতি এবং সংগ্রামী ঐতিহ্য অসাধারণ ব্যঞ্জনায় ভাস্বর হয়েছে। মননশীল গদ্যরচনাতেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত।পাশাপাশি শিশুসাহিত্য এবং দেশ-বিদেশের কবিতার অনুবাদেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলা একাডেমি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি সততা, নিষ্ঠা এবং কর্মদক্ষতার উদাহরণ রেখে গেছেন। বাংলা একাডেমি পরিবার চিরকাল তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করবে।
শোক বাণীতে বলা হয় ‘আমরা কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।’
গত ২৫ এপ্রিল হাবিবুল্লাহ সিরাজীকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাবিবুল্লাহ সিরাজীর পেটে ইনটেস্টিনাল অবসট্রাকশন (পেটে নাড়িভুঁড়ি পেঁচিয়ে যাওয়া) অপারেশন করতে গিয়ে বৃহদন্ত্রের পাশে বড় আকারের একটি টিউমার ব্লাস্টের অস্তিত্ব পান। পরবর্তীতে অপারেশন শেষে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সোমবার মারা যান।
পদ্য-গদ্য মিলিয়ে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর বইয়ের সংখ্যা ৫০টির বেশি। লিখেছেন উপন্যাস, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথাও। কবিতার জন্য ২০১৬ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯১ সালে পান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। এ ছাড়া যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৭), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), বিষ্ণু দে পুরস্কার (২০০৭), রূপসী বাংলা পুরস্কার (২০১০), মহাদিগন্ত পুরস্কার (২০১১)- সহ অনেক স্বীকৃতি অর্জন করেন।
