বহুল আলোচিত মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা তদন্তে আরও নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। মৃত্যুর দিন মুনিয়া দফায় দফায় ফোন করে নুসরাতকে ঢাকায় আসার জন্য বলেন। কিন্তু নুসরাত রহস্যজনক কারণে আসতে দেরি করেন। এতে মুনিয়ার মনে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ছিল যে, ‘তাকে নিয়ে নতুন ফন্দি আঁটতে দেরি করছিল নুসরাত। অপরাধ বিশ্লেষকরা এমন ধারণা দিয়ে বলছেন, বারবার অনুরোধ করার পরও নুসরাতের অবহেলা ও বিলম্ব মুনিয়ার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে থাকতে পারে। আর এসব থেকে নুসরাতের ওপর অভিমানে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পর্যায়ে এসে তদন্তকারীরা যেসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন তার মধ্যে রয়েছে, ‘মুনিয়া কি আত্মহত্যা করেছেন না তাকে হত্যা করা হয়েছে; আত্মহত্যা করলে মৃত্যুর আগে তিনি কোন ‘ডেথ নোট’ লিখেছেন কি না। মৃত্যুর পূর্ববর্তী সময়ে মুনিয়া কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাকে কেউ কোন ধরনের চাপ দিয়েছিল কি না ও কারও ওপর অভিমান ছিল কি না?
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ যাবৎ তদন্তে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে মুনিয়া কোনো ডেথ নোট লিখে যাননি। মৃত্যুর আগে মুনিয়া বারবার মামলার বাদী নুসরাতের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসার অনুরোধ করেন। এসময় নুসরাত আসছি, রওনা দিচ্ছি বলে প্রবোধ দেন।
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুমিল্লা থেকে ঢাকা আসতে নুসরাত ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করেন। দেরি করার কারণ এজহারে উল্লেখ নেই। তবে নুসরাত বিভিন্ন জায়গায় সাক্ষাৎকারে বলেন, গাড়িচালকের কারণে তার ঢাকায় আসতে দেরি হয়েছে। এই বিলম্ব করার সঙ্গে মুনিয়ার মৃত্যুর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নুসরাত দেরি করার কারণে অধৈর্য হয়ে ওঠেন মুনিয়া।
গত ২৬ এপ্রিল মুনিয়ার বোন ও ভগ্নীপতির ভাড়া করা বাসা থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ। ওই রাতেই গুলশান থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই ঘটনার কয়েক দিন পর গত ২ মে মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা মামলা করেন। দুটি মামলা মাথায় রেখে মুনিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
