২০১৯ সালের শুরুর দিকে নিষিদ্ধ হয় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘শনিবার বিকেল’ বা ‘স্যাটারডে আফটারনুন’। সেই কথা বেশ আক্ষেপের সুরে স্মরণ করলেন নির্মাতা।
বুধবার দুপুরে সংক্ষিপ্ত ফেইসবুক পোস্টে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাংলাদেশের পরিচিত এ নির্মাতা লেখেন, “শনিবার বিকেল’ ছবিটা ব্যান হয়ে থাকার দুই বছর হয়ে গেলো! যারা এই ব্যানের পেছনে আছেন আল্লাহ তাদের সবার আত্মায় প্রশান্তি দিক!
এবং আল্লাহ আমাদের এই সব মুখ বুঁজে সহ্য করার তওফিক দান করুক যাতে আমাদের কোনো কথা বা কাজে তাঁদের গোস্বা না হয়! আমিন!”
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ‘শনিবার বিকেল’-এর ছাড়পত্র না পাওয়া প্রসঙ্গে সেন্সর বোর্ডের অন্যতম সদস্য ইফতেখার নওশাদ দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, সিনেমাটি গুলশানের হলি আর্টিজানের হামলাকে উপজীব্য করা হয়েছে। ছবিটি যদি দেশের বাইরে প্রচারিত হয় তাহলে তা ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হবে।
আরও জানান, এ ছবি বাণিজ্যিকভাবেও বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকতে পারে। এর ফলে বিদেশিদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে যা আমাদের দেশে বিনিয়োগে বাধার সৃষ্টি করবে।
তবে প্রথমে শোনা যায় ‘শনিবার বিকেল’ সেন্সরে প্রশংসিত হয়েছে, কিন্তু পরে পর্যায়ক্রমে আসে ছাড়পত্র না পাওয়া ও নিষেধাজ্ঞার খবর। এরপর বিশ্বের একাধিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি।
২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার ছায়া ধরে ‘শনিবার বিকেল’ বা ‘স্যাটার ডে আফটারনুন’ নির্মিত হয়েছে বলে আগে থেকেই কেউ কেউ মন্তব্য করে আসছিলেন।
ওই সময় সিনেমাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের গুঞ্জন উঠলে ফারুকীর প্রতিষ্ঠান ছবিয়ালের পক্ষ থেকে বলা হয়, যারা এই অপপ্রচার করছেন তাদেরকে বলছি ধৈর্য ধারণ করে ছবি দেখে তারপর কথা বললে ব্যাপারটা স্বাস্থ্যকর হবে।
ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ফিলিস্তিনের অভিনেতা ইয়াদ হুরানি, জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, ইরেশ যাকের, মামুনুর রশীদ ও কলকাতার পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়সহ অনেকে। প্রযোজনায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও জার্মানির প্রতিষ্ঠান।
‘শনিবার বিকেল’-এর এমন পরিণতির পর বাংলা ছবির দিকে আর এগোননি ফারুকী। মুম্বাই নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকীকে নিয়ে নির্মাণ করেন ইংরেজি ভাষার ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’। তার পরের ছবি ‘আ বার্নিং কোয়েশ্চন’ রয়েছে প্রস্তুতির পর্যায়ে।
