২০২৪’র প্যারিস অলিম্পিককে সামনে রেখে কোরিয়ান পিস্তল কোচ কিম ইল ইয়াংয়ের সঙ্গে চুক্তি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন। দীর্ঘ মেয়াদে অভিজ্ঞ কোচ পেয়ে ভীষণ খুশি দেশসেরা পিস্তল শুটার শাকিল আহমেদ খান। আশাবাদী এই শুটার হৃদয়ে এঁকেছেন বড় স্বপ্ন। করুণায় (ওয়াইল্ড কার্ড) নয়, তিনি চান প্যারিস অলিম্পিকে নিজ যোগ্যতায় খেলতে।
টোকিও অলিম্পিক কড়া নাড়ছে। নিজ যোগ্যতায় খেলার সুযোগ হারিয়ে শাকিল অপেক্ষায় ওয়াইল্ড কার্ডের। এবার সেটা না জুটলেও হতাশায় ভেঙে পড়তে চান না কমনওয়েলথ গেমসে রুপাজয়ী এই শুটার। বরং প্রবল উৎসাহে তিনি কোরিয়ান কোচের অধীনে তৈরি হতে চান প্যারিস গেমসের জন্য। বড় মঞ্চে ফাইনাল খেলার জন্য যে মানে পৌঁছানো দরকার, তার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন শাকিল। অনুশীলনে নিয়মিতই ৬০০-তে ৫৭০-৫৭৫ স্কোর করছেন। নিজেই বললেন, স্কোরটা ৫৮০-তে নিয়ে যেতে পারলেই যে কোনো বৈশ্বিক আসরের সেরা আটে খেলা নিশ্চিত হবে তার। এই উন্নতিটাই কোরিয়ান কোচের অধীনে থেকে করতে চাইছেন শাকিল, ‘অতীতে এই কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের সবারই উন্নতি হয়েছিল। ফেডারেশন কোচের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করায় তাই খুব ভালো লাগছে। তিনি বিশ্বমানের কোচ। শক্তিশালী কোরিয়া দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। উনি এরমধ্যেই আমাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে শুরু করেছেন। আশা করছি ওনার অধীনে নিজেকে আরও ওপরে নিয়ে যেতে পারব। টোকিও অলিম্পিকে খেলাটা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে কোচ চান আমাদের প্যারিস অলিম্পিকের জন্য গড়ে তুলতে। যাতে সেখানে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করি।’
কোচ আপাতত অলিম্পিক ক্যাম্পে থাকা একমাত্র পিস্তল শুটার শাকিলকে নিয়েই কাজ করছেন। তবে তার কাজের পরিধি জাতীয় দলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই কোচ নতুন নতুন শুটারদের নিয়েও কাজ করবেন। নতুন চুক্তি করার জন্য কিম ঢাকায় এসেছেন ১৩ মে। এ ক’দিন সম্ভাবনাময় পিস্তল শুটারদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। কাল ফেডারেশন সভাপতি লেফনেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসানের উপস্থিতিতে কিম এবং ফেডারেশন মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে কিম বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাবান শুটার রয়েছে। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে তাদের উন্নতি করার চেষ্টা করব।’ ইন্তেখাবুল হামিদও আশাবাদী কিমকে নিয়ে, ‘তিনি ভালোমানের কোচ বলেই তার সঙ্গে চুক্তি ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক পর্যন্ত নবায়ন করেছি। আশা করছি তার অধীনে দেশের পিস্তল শুটারদের হাত ধরে সাফল্য আসবে।’
প্রথম পর্যায়ে ২০১৮ সালের শেষ দিকে পিস্তল শুটারদের নিয়ে কাজ করতে এসেছিলেন কিম। ২০১৯ সালের এসএ গেমসের কিছু আগে তিনি ফিরে যান। তবে তার অধীনে অনুশীলন করে এসএ গেমসে রুপা উপহার দিয়েছিলেন পিস্তল শুটার আরদিনা ফেরদৌস। ছেলেদের দলগত ইভেন্টেও রুপা জিতেছিল বাংলাদেশ। আর মিক্সড ইভেন্টে আসে ব্রোঞ্জ।
