ব্যাংক শেয়ারে ভর করে পুঁজিবাজারে সূচকের উল্লম্ফন ঘটেছে। ফলে ৩৯ মাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি। বাজার মূলধনে সবচেয়ে বেশি ফ্রি-ফ্লোট থাকা ব্যাংক খাতের দর গতকাল প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সিমেন্ট, জীবন বীমা ও বস্ত্র খাতের শেয়ারগুলোর দরও বেড়েছে। ফলে এক দিনে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর প্রধান সূচকটি বেড়েছে ১০১ পয়েন্ট।
বাজারের এই উল্লম্ফনে সূচকটি ৫৯৮৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যা ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ অবস্থান। ডিএসইর প্রধান সূচকটি পরিবর্তনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছিল ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর। সেদিন সূচকটির অবস্থান ছিল ৬৩৩৬ পয়েন্টে। পুঁজিবাজারে বর্তমানে যে চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে, তাতে করে সূচকটি ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানের রেকর্ড ভাঙবে বলে মনে করছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা।
এদিকে তেজি বাজারে সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট। এ নিয়ে ঈদ-পরবর্তী নয় কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে ডিএসইতে। ডিএসইতে এখন পর্যন্ত ৭৫ দিন দুই হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। যার মধ্যে চলতি বছর হয়েছে আট দিন। চলতি বছর ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছিল গত ৫ জানুয়ারি, ২ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। ডিএসইর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছিল ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর, ৩ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা।
লেনদেন ও সূচকের উল্লম্ফনের দিনে বাজার মূলধনেও নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে ডিএসইতে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকায়। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বাজার মূলধন ৫ লাখ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছিল। এরপর মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, তাতে করে টানা দরপতন দেখা দেয়। ফলে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজার মূলধনও কমতে থাকে। এতে করে গত ৪ এপ্রিল ডিএসইর বাজার মূলধন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকায় নেমে আসে। তবে বাজারের অব্যাহত পতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি মার্জিন ঋণ বিতরণের হার বাড়িয়ে দেওয়ায় আবারও চাঙ্গাভাব ফিরে আসতে শুরু করে। লেনদেন ও সূচকে উন্নতির পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জও হারানো বাজার মূলধন ফিরে পেতে শুরু করে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুঁজিবাজারের উল্লম্ফনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাত। ডিএসইর বাজার মূলধনে সবচেয়ে বেশি ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার রয়েছে এ খাতটির। বাজার মূলধনে খাতটির অবস্থান দ্বিতীয় হলেও ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারের হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক খাত। মূলত ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার বিবেচনায় নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক গণনা করা হয়। এ কারণে সূচকে সবচেয়ে প্রভাবশালী খাত হচ্ছে ব্যাংক। তাই গতকাল সূচক বৃদ্ধিতে ব্যাংক খাতই অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। গতকাল এ খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তালিকাভুক্ত ৩১ ব্যাংকের মধ্যে ৩০টির দরই বেড়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়েছে ১৫টি ব্যাংকের।
যদিও খাতওয়ারি হিসাবে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে জীবন বীমার। গড়ে খাতটির প্রতিটি কোম্পানির দর বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, সিমেন্ট, সিরামিকস, বস্ত্র, টেলিযোগাযোগ ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরও বেড়েছে। বিপরীতে সেবা ও নির্মাণ, খাদ্য ও অনুষঙ্গ, পাট, কাগজ, এনবিএফআই ও ট্যানারি খাতের দর কমেছে।
গতকালের লেনদেনেও ব্যাংকসহ পুরো আর্থিক খাতের প্রাধান্য লক্ষ করা গেছে। ডিএসইতে যে লেনদেন হয়েছে তার ৫৬ শতাংশ এসেছে ব্যাংক, বীমা ও এনবিএফআই খাত থেকে। এর মধ্যে ব্যাংকে ২৫, সাধারণ ও জীবন বীমা মিলিয়ে ২৫ শতাংশ লেনদেন এসেছে। গতকালের শীর্ষ লেনদেন ১০ কোম্পানির তালিকার দুটি ছাড়া অন্য সব কোম্পানি ছিল আর্থিক খাতের।
