সুন্দরবনের প্রাণিকুলের ক্ষতি মেরিন ড্রাইভ সড়কে ধস

আপডেট : ২৮ মে ২০২১, ০২:১৭ এএম

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ তার জীবনকাল সমাপ্ত করে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। গত সোমবার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর প্রথমে প্রবল এবং পরে অতিপ্রবল শক্তি ধারণ করে। এরপর বুধবার উপকূলে আঘাত করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে জীবনকালের সমাপ্তি ঘটিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ইয়াস। সবশেষে গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ এটি আরও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়, যা ক্রমান্বয়ে আরও দুর্বল হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তবে ইয়াসের নিঃশেষ হতে হতে আরও এক দিনের মতো লেগে যেতে পারে। তাই ভারতের উপকূলের মতো বাংলাদেশ উপকূলেও এর প্রভাব থাকতে পারে আজ শুক্রবারও। দেশের চারটি প্রধান সমুদ্রবন্দরে তাই ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত আজও বহাল থাকতে পারে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ডুবে গতকাল ঝালকাঠিতে দুই শিশু, বরিশালে দুই শিশু এবং পটুয়াখালীতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরে অস্বাভাবিক পানি বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সড়কটির পাশে দেওয়া জিও ব্যাগ ধস পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মেরিন ড্রাইভে ভাঙন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনেও। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে ১০টি কার্যালয়, ৩৫টি ক্যাম্প, ১৫টি কাঠের জেটি, অর্ধশতাধিক পুকুর ও বেশকিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হরিণের চারটি মৃতদেহ ও দুটি জীবিত হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে শত শত লোকালয়ে সমুদ্রের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে বসতঘর ও মাছের ঘেরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেঙে গেছে সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইয়াস দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমান্বয়ে আরও দুর্বল হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এর কিছু প্রভাব থাকতে পারে দুয়েক দিন। সাগর উত্তাল রয়েছে, জলোচ্ছ্বাসের পানি রয়ে গেছে এবং ব্যাপক বাতাস বয়ে যাচ্ছে। ফলে সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নম্বর সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। এই সংকেত শুক্রবারও (আজ) বহাল থাকতে পারে।’ তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগের চেয়ে তা অনেকটা কমে আসবে। ফলে আগামী দু-তিন দিনে তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি বেড়ে যেতে পারে।

গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উত্তর উপকূলীয় ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়েছে। গতকাল বিকেল ৬টায় নিম্নচাপ হিসেবে ঝাড়খ- ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল ইয়াস। পরে এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

এর আগে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ভারতের উত্তর ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ১৫৫ কিলোমিটার। এটি পরে স্থলভাগের ওপর দিয়ে আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে প্রথমে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও পরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। পরে এটি আরও দুর্বল হয়ে গতকাল সকালের দিকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। তারও আগে গত সোমবার বঙ্গোপসাগরের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর উৎপত্তি হয়।

‘ইয়াস’ দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পরিমাণও কমে এসেছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগের দুদিনের চেয়ে গতকাল বৃষ্টি অনেকটাই কম হয়েছে। খুলনা বিভাগে তুলনামূলক কিছু বেশি বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রাম বিভাগে হাতিয়া ছাড়া আর কোথাও বৃষ্টির খবর পাওয়া যায়নি। বাকি বিভাগগুলোতে কিছু কিছু বৃষ্টি হয়েছে। এদিন ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহে। বৃষ্টি কমায় দেশের অধিকাংশ স্থানেই গতকাল দিনের তাপমাত্রা বেড়েছে। আজ প্রায় সারা দেশেই দিনের তাপমাত্রা আরও ১-২ ডিগ্রি বেড়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে অধিদপ্তর। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সীতাকু-ে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সন্দ্বীপে ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃষ্টির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং সিলেট, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

ঝুঁকিতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরে অস্বাভাবিক পানি বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রেইভ সড়কের পাশে দেওয়া জিও ব্যাগ ধসে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটিতে ভাঙন শুরু হবে। গতকাল সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের রামুর হিমছড়ি ও উখিয়ার পাঠুয়ারটেক এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে।

১৯৯৩ সালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোড নির্মাণ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে সড়ক ও জনপদ বিভাগ সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও পরে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ শুরু করে। সড়কটির নির্মাণকাজ ২০১৮ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের এক বছর আগে ২০১৭ সালের মে মাসে কাজ শেষ হয়। পরে ওই বছরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়কটি উদ্বোধনের মাধ্যমে কক্সবাজার-মেরিন ড্রাইভ সড়কটি চালু করা হয়। তবে প্রতি বছর সড়কটির বিভিন্ন অংশে সাগরের জোয়ারের তীব্র ঢেউতে ভাঙন দেখা দিলে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জিও ব্যাগ বসিয়ে ভাঙন ঠেকিয়ে দেয়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পরে পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারে পুনরায় দুটি অংশ ভাঙনের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর সদস্যরা জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে কাজ শুরু করেছেন।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়া উপজেলার পাঠুয়ারটেক পয়েন্ট ভাঙনের মুখে পড়ার কথা জানিয়ে স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পর্যটনশিল্পের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এতে হুমকির মুখে পড়বে উপকূলীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ।’

মেরিন ড্রাইভ সড়ক ছাড়াও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে গত দুদিনে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকায় আড়াই হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নষ্ট হয়েছে। লবণ নষ্ট হয়েছে ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। গতকাল কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘উপজেলাগুলো থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে দুদিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যাবে।’

পানিতে ডুবে শিশুসহ আরও ৫ মৃত্যু : ঝালকাঠির রাজাপুরে পানিতে ডুবে সামিয়া (৪) ও মো. সিয়াম (৭) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে বড়ইয়া ইউনিয়নে ও সদরের মেডিকেল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সিয়াম পিংড়ি গ্রামের মো. ফারুক হাওলাদারের ছেলে ও আযীযিয়া নূরানী কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। আর সামিয়া বড়ইয়া ইউনিয়নের স্থানীয় সাইফুল হাওলাদারের মেয়ে।

পটুয়াখালীর দুমকিতে লোহালিয়া নদীর চরে হোগলাপাতা আনতে গিয়ে জোয়ারের পানিতে ডুবে হাচিনা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা নিয়ামতি ও গাড়–রিয়া ইউনিয়নে জোয়ারের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

সুন্দরবনে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবের পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে সুন্দরবনে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে বন বিভাগের ১০টি কার্যালয়, ৩৫টি ক্যাম্প, ১৫টি কাঠের জেটি, অর্ধশতাধিক পুকুর ও বেশকিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হরিণের চারটি মৃতদেহ ও দুটি জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সুন্দরবন বন বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও ভরা পূর্ণিমার প্রভাব শুরু হওয়ার পর সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদী ও খালে পানি বাড়তে থাকে। গত বুধবার প্রায় ৫-৬ ফুট পানি উঠে যায় সুন্দরবনে। এতে অর্ধশতাধিক পুকুর লবণপানিতে ডুবে যায়। ঘূর্ণিঝড়ে সুন্দরবনে অবস্থিত বন বিভাগের ৮৩টি কার্যালয়ই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ১০টি কার্যালয়ের চাল উড়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ে অফিসগুলোর যাওয়া-আসার সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন থেকে দুটি এবং লোকালয় থেকে দুটি হরিণের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সুন্দরবনে স্বাভাবিকের থেকে ৫-৬ ফুট বেশি পানি উঠে যায়। আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) সকাল পর্যন্ত আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তাতে প্রবল পানির তোড়ে বেশকিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি জেটি, ছয়টি জলযান (ট্রলার), দুটি গোলঘর, একটি ফুট রেইল, একটি ওয়াচ টাওয়ার, চারটি স্টাফ ব্যারাক ও একটি রেস্ট হাউজ রয়েছে। দুটি কার্যালয়ের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এটা প্রাথমিক ধারণা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।’

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বাগেরহাটের মোংলায় ৫১০টি কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার চিলা, চাঁদপাই ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে ৬৮৫টি ঘেরের চিংড়ি মাছ।

বড় ক্ষতি চিংড়িতে : বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জোয়ারের পানিতে আরও তিন হাজার মাছের ঘের ভেসে গেছে। এ নিয়ে জেলায় গত দুদিনের জোয়ারের পানিতে পাঁচ হাজার মাছের ঘের ভেসে গেল। এতে চাষিদের আর্থিক ক্ষতি ৫ কোটি টাকা।

বাগেরহাট মৎস্য বিভাগের বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) এএসএম রাসেল বলেন, ‘জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলায় মাছের ঘের ভেসে গেছে। এ চারটি উপজেলায় মাছের ঘেরের সংখ্যা ২১ হাজার। এর মধ্যে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে পাঁচ হাজার ঘের ভেসে গেছে।’

শিমুলিয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো ফেরি চলাচল বন্ধ : ইয়াসের প্রভাবে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়ায় গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় শিমুলিয়াঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় থাকে কয়েকশ যানবাহন। তাছাড়া গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে পারাপারের অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হয়। এছাড়া ইয়াসের প্রভাবে প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে গেছে ২নং ফেরিঘাটের পন্টুন।

বরিশালে বাঁধ, রাস্তা ও ঘেরের ক্ষতি : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বরিশালে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রভাবিত হয়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে বিভিন্ন স্থানের বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ছে। একই সঙ্গে প্লাবিত হয় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল।

জোয়ারের পানিতে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর, জয়নগর, বিদ্যানন্দপুর, চাঁনপুর, চর গোপালপুর, গোবিন্দপুর, দরিচর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ডুবে যায়। এসব অঞ্চলের কাঁচা রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি মাছের ঘের ও পানের বরজের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনেরও ক্ষতি হয়েছে।

পিরোজপুরে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সরাসরি আঘাত না হানলেও নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার দক্ষিণ অঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীপাড়ের বিভিন্ন এলাকার বাঁধ ভাঙার কারণে প্রাথমিকভাবে শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ড ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেছে বলে জানান জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবে মওলা মো. মেহেদী হাসান। এছাড়া মাছের ঘের ডুবে যাওয়ায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা দুই হরিণ লোকালয়ে উদ্ধার হয়েছে। গতকাল সকাল ৬টার দিকে মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদ-তীরবর্তী বেতমোর ইউনিয়নের উললুবাড়িয়া ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামবাসীর হাতে বিপন্ন দুটি হরিণ আটক হয়। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সুন্দরবনে জলোচ্ছ্বাসে বিপন্ন হরিণ বলেশ্বর নদ সাঁতরে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত