আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী

ইসলামকে ব্যবহারকারীরা আলেমদের শত্রু

আপডেট : ২৮ মে ২০২১, ০২:২১ এএম

ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহারকারীরা প্রকৃত আলেমদের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত আলেমদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে না, তারা আল্লাহপাকের কাছে প্রার্থনা করেন, মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য বয়ান করেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘ধর্মের নামে অরাজকতা, তথাকথিত ধর্মীয় নেতাদের ধর্মহীনতা এবং শান্তির ধর্ম ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে কিছু আলেম নামধারী ব্যক্তি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছানোতে লিপ্ত। আপনারা দেখেছেন বাবুনগরী-মামুনুল হকের অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি বেরিয়ে এসেছে। কোন দেশে দোকান আছে, কয়টা লরি আছে, এগুলো বেরিয়ে এসেছে। মাদ্রাসা দেখিয়ে বিভিন্ন দেশ এবং দেশের বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তির কাছ থেকে তারা চাঁদা সংগ্রহ করে। আর সেই টাকা দিয়ে পরস্ত্রীকে নিয়ে রিসোর্টে যায় ফুর্তি করার জন্য। এমনকি জাকাত-ফিতরার টাকাও তারা আরাম-আয়েশের জন্য নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিয়ে গেছে। এরা কি আলেম, এরা আলেম নামধারী কলঙ্ক।’

তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রীদের জন্য দেওয়া পুলিশের সুরক্ষা ছাড়া আমার পেছনে কোনো গাড়ি থাকে না আর মামুনুল হক যখন বের হতো, সামনে পাঁচটা পেছনে পাঁচটা এমনকি বিভিন্ন সময়ে আরও বেশি গাড়ি থাকত। এই টাকা কিসের টাকা। তার কি কোনো ইন্ডাস্ট্রি আছে, তার কি কোনো ব্যবসা আছে। ব্যবসা হচ্ছে মাদ্রাসা দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা। যারা এই সমস্ত কাজ করছে, তারা হচ্ছে ইসলামের শত্রু।’

বিএনপি সরকার ইসলামের কথা বলে আলেম-ওলামাদের অনেক কিছু দেবে বলে কোনো কিছু দেয়নি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার আলেম-ওলামাদের জন্য অনেক কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই আজকে ইসলামের খেদমতে নানা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাদের সরকারি চাকরিও দিয়েছেন।’

ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মো. মামুনুর রশিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য ড. মুফতি মাওলানা কাফিল উদ্দিন সরকার সালেহী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত