গাজীপুরের বাসন থানায় পারিবারিক বিবাদের জের ধরে শাসন করার সময় মেয়ের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মা হেলেনা বেগমের (৪২) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ দশম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হুমায়রা বিজলী (১৭) গত বুধবার ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
পরে বাবা বজলুর রহমান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করলে গত বৃহস্পতিবার হেলেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন হেলেনা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বজলুর রহমান স্থানীয় একটি কারখানায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করেন। বাড়ি বরিশালের মুলাদী থানার বাহাদুরপুর গ্রামে। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাসন থানাধীন চান্দনা গ্রামের বুড়ির মোড় এলাকায় নুরুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয়তলায় স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকেন।
মেয়েদের মধ্যে বিজলী ‘উচ্ছৃঙ্খল’ জীবনযাপন করত। বিষয়টি নিয়ে ওই পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছিল। ২১ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাসন করার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ মা হেলেনা বেগম বিজলীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেশলাই জ¦ালিয়ে দেন। পরে হাসপাতালে নিলে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার বিজলীর মৃত্যু হয় বলে জানান বাসন থানার ওসি কামরুল ফারুক।
মামলার বরাত দিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মিজানুর রহমান জানান, আগুনে বিজলীর শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়ে যায়। প্রথমে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মেয়ের মৃত্যু ঘটনায় হেলেনা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
