ইউএনওদের বাসভবন-শারীরিক নিরাপত্তা

৪৯২ উপজেলায় আনসারের জন্য হচ্ছে আবাসিক ভবন

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ০২:১৭ এএম

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) নিজেদের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য বছরখানেক ধরে সশস্ত্র আনসার সদস্য পেয়ে আসছেন। এবার নিজেদের শারীরিক নিরাপত্তাসহ সরকারি বাসভবনের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য মোট ১৫ সদস্যের আনসারের একটি ‘ইউনিট’ পাচ্ছেন ইউএনওরা। আর ওইসব ইউনিটে যেসব আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের মোট ৪৯২টি উপজেলায় ইউনওদের আবাসিক ক্যাম্পাসের মধ্যেই আনসার সদস্যদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের দাপ্তরিক কাজও শেষ হয়েছে। প্রতিটি স্থাপনার জন্য ১৫ লাখ টাকা করে মোট ৭৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হবে এ খাতে। কাজটি বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যে সারা দেশের ইউএনও এবং উপজেলা পর্যায়ে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সারা দেশেই ইউএনওদের আবাসিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আনসার রয়েছে। এবার সেখানে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে একটি ব্যারাক তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। অস্ত্রসহ আনসার সদস্যদের একটি ইউনিট সেখানে থাকবে। তাদের বেতন-ভাতাদি সরকার থেকে বরাদ্দ করা হবে। ইউএনওরা তা পরিশোধ করবে।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান আনসার সদস্যদের জন্য ব্যারাক নির্মাণকাজের নকশা ও ব্যয় প্রাক্কলন করে একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠান। সেখানে তিনি বলেন, ‘উপজেলায় আনসার সদস্যদের ভবন নির্মাণের জন্য ১৭ লাখ ৮৪ হাজার ৯৬ টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুত করে ইতিপূর্বে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ইলেকট্রিক ও স্যানিটারি কিছু আইটেম বাদ দিয়ে তা ১৫ লাখে সীমাবদ্ধ রেখে প্রাক্কলন পুনরায় প্রস্তুত করা হয়েছে।’ এরপর ২৯ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মমতাজ বেগম সারা দেশে ইউএনওদের কাছে পাঠান। সেখানে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের বাসভবন ও শারীরিক নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের আবাসন ভবন নির্মাণ বিষয়ে আনসার সদর দপ্তরের অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৫ লাখ টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে এ বিভাগে পাঠায়। এ ১৫ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় সীমাবদ্ধ রেখে সরকারি বিধি অনুসরণ করে কাজ শেষ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. এস. এম কাশেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা ইতিমধ্যে আনসারদের আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। এটা মূলত আমাদের আবাসিক ক্যাম্পাসের মধ্যেই নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে মোট ১৫ জন আনসার সদস্যের বাসস্থান করা হচ্ছে। বর্তমানে ১০ জন আনসার আছে। আরও ৫ জন পরে যোগ হবে। অনলাইন দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করবে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর।’ 

জানা গেছে, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সরকারি বাসভবনে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের তৎকালীন ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী। ওয়াহিদা খানমের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। এরপর ইউএনওদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার পর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার জন্য জোরালোভাবে দাবি জানানো হয়। তখন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের সব উপজেলার ইউএনওদের প্রাথমিক নিরাপত্তা দিতে পাঠানো হলেও ইউএনওদের দাবি ছিল, পুলিশ গানম্যানসহ ব্যাটালিয়ন আনসার। পুলিশ গানম্যান না পেলেও বর্তমানে একটি আনসার ইউনিটের মাধ্যমে ইউএনওদের সব ধরনের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দুই একটি হামলার ঘটনার পর মাঠ প্রশাসনের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। ইউএনওরা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হতো। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা সময়োপযোগী বলেও মন্তব্য অনেকের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত