১৯৪১ সাল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। টালমাটাল পৃথিবীর অনেক দেশই ততদিনে জড়িয়ে পড়েছে এই যুদ্ধে। পার্ল হারবারে জাপানের আক্রমণের পর কোমর বেঁধে যুদ্ধে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রও। নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি তরুণ-যুবাদের যুদ্ধে নামার ডাক এসেছে সরকারের তরফে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে লেখাপড়া বা চাকরি ছেড়ে অনেকেই যোগ দিচ্ছেন যুদ্ধে। দেশটির ইলিনয়েস অঙ্গরাজ্যের ১৭ বছরের তরুণ বিল গোসেটও তেমন একজন। লিংকন কলেজের এই ছাত্র স্নাতক শেষ না করেই দেশটির বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন যুদ্ধে। যুদ্ধ শেষে ফিরে এসে বিল অনেকবার ভেবেছেন স্নাতকটা শেষ করবেন। কিন্তু নানা কারণে আর হয়ে ওঠেনি তার ডিগ্রি অর্জন। তবে ৮০ বছর পর অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো তার। নিজের ৯৭ বছর বয়সে এসে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি পেলেন বিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ অবসান হলে বাড়িতে ফিরে পারিবারিক ব্যবসায় মন দেন বিল। ব্যবসার চাপে আর কলেজে ফেরা হয়নি তার।
বিল বলেন, ‘আমার মধ্যে সব সময়ই কলেজে ফেরার তাড়া ছিল। কিন্তু ব্যবসায় এমনভাবে জড়িয়ে যাই যে লেখাপড়ার জন্য আলাদা করে সময় করার সুযোগ ছিল না। আমাকে ব্যবসার পড়ালেখার দিকেই গুরুত্ব দিতে হয়েছে। এভাবে সময় পেরিয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি আমার মনে হয় ডিগ্রিটা আমার নেওয়া দরকার। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আমি আমার লক্ষ্য স্থির করি। এরপরই কলেজ কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারাও আমার ইচ্ছাকে স্বাগত জানায়।’
কলেজটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেভিড গার্লাস বলেন, ২০১৯ সালে বিল গোসেট আমার কাছে এসে বলেন, তিনি তার অসমাপ্ত ডিগ্রিটা নিতে চান। তখন আমরাও তাকে স্বাগত জানাই। পরে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে সভা করে তাকে পুনঃভর্তির অনুমতি দেয়। আসলে তার আগ্রই ছিল সবার জন্য বড় অনুপ্রেরণা।’
গোসেট এরপর ২০২০ সালে পরীক্ষায় বসেন এবং ভালোভাবেই পাস করে যান। কিন্তু করোনার কারণে সে বছর আর আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেওয়া হয়নি। অঙ্গরাজ্যে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় তাকে কয়েক দিন আগেই তুলে দেওয়া হয় সেই সনদ।
বিল গোসেট এ বছর যখন তার সনদ নিতে কলেজে আসেন কলেজ প্রেসিডেন্ট ডেভিড গার্লাস তাকে আরেকটি চমক দেন। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিও।
