বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার চায় না খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে আবার জনগণের সামনে আসুক। আর এ কারণেই অসুস্থ খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে অনুমতি দেয়নি।’ গতকাল শনিবার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে জেল খাটিয়েছে। কারণ খালেদা জিয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গণতন্ত্রের পতাকা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন। জনগণকে উজ্জীবিত করেছেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে।’
বর্তমান তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যখন তরুণ ছিলাম তখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন যারা যুবক তাদের কাছে আমার আবেদন, ১২ বছর ধরে আমরা লড়াই করছি। সেই লড়াই সংগ্রামকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। শপথ নিতে হবে যে আমরা গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। দেশকে মুক্ত করব। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, উত্থানের শত্রু তারা আবার ওয়ান-ইলেভেন থেকে সক্রিয় হয়েছেন। তারা দেশে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে।’
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক কথা বলে কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত তাদের যে দুঃশাসন, নৈরাজ্য ও লুটপাট চালিয়েছিল সে বিষয়ে কোনো কথা বলে না। তাদের অপশাসনের কারণে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। কেন তারা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল সে কথা বলে না। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আসলে তাদের অন্তরে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা।’
তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশের পাশাপাশি বিশে^র বিভিন্ন দেশের কূটনীতি, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সাংবাদিকরা তাকে নিয়ে লিখেছেন। এর মধ্যে একজন লিখেছিলেন, ‘জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে মারা না গিয়ে যদি ১৯৭৫ সালে মারা যেতেন তাহলে বাংলাদেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত লাইবেরিয়ার মতো দেশে পরিণত হতো।’ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গণমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিনে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কাভার পেজ করেছিল।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জনগণ রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসানোর পর তিনি অল্প সময়ের মধ্যে দেশে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করেছিলেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বিশে^র মধ্যে বাংলাদেশকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছিলেন।’
দলের এই ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে সভা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।
