ফের চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হলেন আরেক তরুণী। গত শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ ফেরার সময় ঢাকার আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী (২২)। এর আগে গত কয়েক বছরে মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় একই কায়দার বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে।
এদিকে শুক্রবারের ওই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়ছে। আর ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ-উত্তর) আব্দুল্লা হিল কাফি জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিত তরুণী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিৎকার শুনে টহল পুলিশ বাস থামিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে তরুণীকে উদ্ধার ও বাসটি জব্দ করে।’
তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের মো. আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনা এলাকার সাজু (২০), বগুড়ার ধুনট উপজেলার খাটিয়ামারি এলাকার সুমন (২৪) ও একই এলাকার সোহাগ (২৫), বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৪০) এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামঘর এলাকার মনোয়ার (২৪)। তারা সবাই তুরাগ থানার কামারপাড়া ভাসমান এলাকায় ভাড়া থেকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কে মিনিবাসে চালক-সহকারী হিসেবে কাজ করে।
আর ভুক্তভোগী তরুণী নারায়ণগঞ্জে স্বামী ও সন্তান নিয়ে থাকেন। তিনি সেখানে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। তার স্বামীর বাড়ি লালমনিরহাটে।
আশুলিয়া থানা-পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর বোন মানিকগঞ্জে থাকেন। শুক্রবার তিনি বোনের বাসায় যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে নারায়ণগঞ্জে নিজের বাসায় ফেরার জন্য তিনি বাসে ওঠেন। রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় বাসের জন্য তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত ৯টার দিকে নিউ গ্রামবাংলা পরিবহনের একটি মিনিবাসের চালকের সহকারী মনোয়ার ও সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম এসে টঙ্গী স্টেশন রোডের কথা বলে তার কাছে ৩৫ টাকা ভাড়া চায়। তিনি মিনিবাসে উঠলে গন্তব্যে যাওয়ার আগেই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। চালক বাসটি নিয়ে আবার নবীনগরের দিকে রওনা হয়। এ সময় বাসের জানালা ও দরজা আটকে বাসের চালক, সহকারীসহ ছয়জন ওই নারীকে ধর্ষণ করে। টহল পুলিশ বাসটি থামিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ সময় ওই ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি সাজ্জাদ করিম বলেন, মহাসড়কে চলাচলকারী একটি মিনিবাসের ভেতর থেকে হঠাৎ এক নারী চিৎকার করলে আমাদের মোবাইল টিমের সদস্যরা গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-জ-১১-১৬৪৮) আটক করে। পরে ওই নারীর কাছ থেকে ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লা হিল কাফি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করায় শনিবার দুপুরে সাত দিনের পুলিশি রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে, গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০১৩ সালে মানিকগঞ্জে এক তরুণীকে চলন্ত বাসে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার বিচার হওয়ার আগেই ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থেকে গাজীপুর যাওয়ার পথে বাসচালক ও দুই সহকারী বাসের মধ্যে এক তরুণীকে হাত-পা-মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। এর এক বছরের মাথায় জেলাটির বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ফের চলন্ত বাসে এক তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে এক নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। ২০২০ সালে সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের সুজানগর এলাকায় চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন এক স্কুলছাত্রী।
