২০০২ সালে সাতক্ষীরায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির সাত নেতাকর্মীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে ২০ জুনের মধ্যে লিভ টু আপিল করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের ওই আদেশটির ওপর চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ এই সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন। হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার চেম্বার আদালত এ স্থগিতাদেশ দেয়।
এর আগে গত ২৫ মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক আদেশে আসামি গোলাম রসুল, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, জহিরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলামকে জামিনের আদেশ দেয়। সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুস সামাদের বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছিল সাড়ে চার বছর করে। বাকিদের সাজা হয় চার বছর করে। পরে হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৮ জনের জামিনের আবেদন বিচারিক আদালতে নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। এদিকে এ মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আরও ১১ জনের বিষয়ে গতকাল হাইকোর্টের আদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এস এম মুনীর বলেন, ২০ জুন পর্যন্ত আদেশের বিষয়টি স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) করেছে হাইকোর্ট।
আলোচিত এ মামলায় বিচার শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক রায়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং বাকি ৪৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ-াদেশ দেয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সফরে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
