ভয়ংকর মাদক এলএসডি কারবারে জড়িত ১৫ গ্রুপ

আপডেট : ৩১ মে ২০২১, ০৫:৪৫ এএম

দেশে এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডায়েথিলামাইড) নামক মাদকের সেবন ও কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগ। কমপক্ষে ১৫টি গ্রুপ জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, এই জিজ্ঞাসাবাদে তারা এলএসডি কারবারের সঙ্গে যুক্ত আরও ১৫টি গ্রুপের সন্ধান দিয়েছে। ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আব্দুল আহাদ রবিবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, শনিবার ও রবিবার রাজধানীর শাহজাহানপুর, রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা  এলাকায় অভিযান চালিয়ে এলএসডি সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাইফুল ইসলাম সাইফ (২০), এসএম মনওয়ার আকিব (২০), নাজমুস সাকিব (২০), নাজমুল ইসলাম (২৪) ও বিএম সিরাজুস সালেকীন (২৪) নামের পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই হাজার মাইক্রোগ্রাম এলএসডি, আইস ও গাঁজা জব্দ করা হয়।

তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই পাঁচজন জানিয়েছে গত এক বছর ধরে এলএসডি সেবন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত তারা। অনলাইনে তাদের এই কারবার পরিচালনা করা হচ্ছিল।

আব্দুল আহাদ বলেন, অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা আকৃষ্ট হয়ে এলএসডি সেবন শুরু করে। তারা মূলত নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে এলএসডি মাদক সংগ্রহ করে থাকে। রাজধানীতে এ রকম ১৫টি গ্রুপ রয়েছে। 

গ্রুপগুলোকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না জানতে চাইলে আহাদ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি এরা সরাসরি কারবার ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে কাজ চলছে।

তিনি জানান, ১৯৩৮ সালে সুইজারল্যান্ডের একজন বিজ্ঞানী ওষুধ হিসেবে এলএসডি আবিষ্কার করেন। এখন এটিকে মাদক হিসেবে অপব্যবহার করা হচ্ছে।

দেশে এলএসডি কীভাবে আসে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, কুরিয়ার ও লাগেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে এলএসডি আসে। বেশ কয়েকটি গ্রুপ দেশে এলএসডি আনার সঙ্গে জড়িত। আমরা এসব গ্রুপের সব সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে পারব বলে আশা করি।

গত ১৫ মে নিহত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এলএসডির সন্ধান পায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযান চালিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে তারা। ডিবি জানায়, হাফিজুরকে তার বন্ধুরা এলএসডি সেবন করানোর পর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক ডাব বিক্রেতার দা কেড়ে নিয়ে নিজের গলায় চালিয়ে দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়। ডিবির এই বক্তব্যের পর এলএসডি নতুন করে আলোচনায় আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত