ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরুর আগেই সংবাদ সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন নাওমি ওসাকা। টুর্নামেন্ট কমিটি তাকে বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছিল। জরিমানাও করা হয়। প্রথম ম্যাচ জেতার পর কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে নিজেই সরে দাঁড়িয়েছেন এই জাপানি।
টুইটারে লম্বা এক বিবৃতি দিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান ওসাকা। লিখেছেন ‘আমার মনে হয়, এই টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করাই উচিত। কারণ, তাতে আমি আরও ভালো থাকব। পাশাপাশি আমি নাম প্রত্যাহার করে নিলে বাকিরা প্যারিসের জন্য আরও বেশি করে মনঃসংযোগ করতে পারবে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি কারোর মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে চাই না। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বর্তমানে আমার সময়টা ঠিক যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা, আমি নিজে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারটাও তুচ্ছ করতে চাই না কিংবা হালকাভাবে নিতে চাই না।’ বিবৃতির শেষ লাইনে ওসাকা লিখেছেন, ‘আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো এবং সাবধানে আছো, তোমাদের অনেক ভালোবাসা, আমি তোমাদের সঙ্গে তখন দেখা করব যখন আমি চাইব।’ ফ্রেঞ্চ টেনিস সংস্থার প্রধান জিলেস মোরেটন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বিবৃতিতে জানান, ‘প্রথমত এবং সবার আগে আমরা নাওমি ওসাকার জন্য খুবই দুঃখিত। রোলাঁ গারোঁ থেকে ওর নাম প্রত্যাহার খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের পক্ষ থেকে ওর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। সামনের মৌসুমে ওকে আবার এই টুর্নামেন্টে দেখার অপেক্ষায় রইলাম।’
ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। সোমবার নিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর সেরেনা বলেন, ‘নাওমির সমস্যাটা আমি বুঝি। পারলে আমি তাকে জড়িয়ে ধরতাম, কারণ আমি জানি এ অনুভূতিটা কেমন। আগেও বলেছি, আমি নিজেও এ পরিস্থিতিতে পড়েছি অনেকবার। আমরা সবাই একে অন্যের থেকে কিছুটা ভিন্ন। সবাই এক নয়। সবাই তাদের পরিস্থিতিগুলোকে ভিন্ন ভিন্নভাবে সামলায়। তাকে তার মতো করে বিষয়গুলোকে সামলাতে দেওয়া উচিত। আমি এটাই বলতে পারি কেবল। আমার মনে হয় সে তার সেরাটাই দিচ্ছে।’
ওসাকার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিলি জিন কিং এবং মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার মতো কিংবদন্তিরাও। টুইটারে নাভ্রাতিলোভা লিখেছিলেন, ‘বাকি খেলোয়াড়দের কথা ভাবার জন্য তোমাকে অভিবাদন। নিজের ও বাকিদের সমস্যার সমাধান যাতে হয়, সেই চেষ্টাই ওসাকা করেছিল। কিন্তু ঘটনাচক্রে সেটা খারাপ দিকে মোড় নেয়। আশা করি ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে সরে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত ওসাকাকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।’ নাভ্রাতিলোভা আরও একটি টুইটে লেখেন, ‘ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমাদের এই শিক্ষাই দেওয়া হয় যে কীভাবে নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া যায়। আবেগ মাঝেমধ্যে আমাদের শরীর ও মনকে ছাপিয়ে যায়। সেটা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। সেই শিক্ষাও কিন্তু আমাদের দেওয়া হয়। এটা শুধু একটা সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া কিংবা না নেওয়ার ব্যাপার নয়। নাওমিকে শুভেচ্ছা। আমরা সবাই তোমার পাশে আছি।’ বিলি জিন কিং টুইটারে লিখেছেন, ‘মেয়েটার সাহস আছে। সবাই কিন্তু ওর মতো সাহস দেখাতে পারে না। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখানো মুখের কথা নয়।’
