রেমিট্যান্সে ১১ মাসে ৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

আপডেট : ০২ জুন ২০২১, ১২:৫১ এএম

প্রতি মাসেই রেমিট্যান্স বাড়ছে। রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স আরও বেড়েছে। গত মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৭ কোটি ডলার, যা এর আগের মাস এপ্রিলে আসা রেমিট্যান্সের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। আর এর মধ্য দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রেমিট্যান্স বাড়ল ৩৯ শতাংশ।

গত মে মাসে আসা এই পরিমাণ রেমিট্যান্স একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। এতদিন এই অঙ্কটিই ছিল একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। তবে বিদায়ী মে মাসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। ফলে এটাই এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে। গত মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে চলতি বছরের মে মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ ছাড়া গত এপ্রিলের তুলনায়ও মে মাসে রেমিট্যান্স ৫ শতাংশ বেড়েছে। গত এপ্রিলে রেমিট্যান্স আসে ২০৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফনের ফলে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ২৮৩ কোটি ডলারে, যা এর আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৬৩৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে সঙ্গে আরও ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। কোনো কোনো ব্যাংক এই প্রণোদনার সঙ্গে আরও ১ শতাংশ যোগ করে মোট ৩ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এই প্রণোদনা কার্যক্রম করোনা মহামারীর মধ্যে দেশে রেমিট্যান্সের অন্তর্মুখী প্রবাহকে ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সের নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। এ জন্য আগামী বাজেটে বরাদ্দও বাড়ানো হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বগতির কারণে এ অর্থে সংকুলান হচ্ছে না। ফলে নতুন বাজেটে রেমিট্যান্সের প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি উঠেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে রেমিট্যান্স প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন বাজেটে তা বাড়ানো হবে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। ওইদিন জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন অর্থবছরে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হতে পারে। তবে প্রণোদনার হার না বাড়লেও এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হবে। কারণ, রেমিট্যান্সের প্রণোদনা বাবদ প্রতি মাসে গড়ে ৩৩০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলে বাজেটে বরাদ্দ করা অর্থ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই শেষ হয়ে যায়। এ জন্য বাকি তিন মাসের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ৪ হাজার কোটি টাকা করা হবে বলে আশা করছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চিতিতে (রিজার্ভ) আবারও নতুন উচ্চতা পেয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ দ্বিতীয়বারের মতো ৪৫ বিলিয়ন (৪ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারের ঘর অতিক্রম করে। এই দিন রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫০৫ কোটি ডলার।

এর আগে গত ৩ মে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। তবে এর পরের দিন এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি দায় পরিশোধের ফলে রিজার্ভ আবার ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত