দ্বিতীয় দফায় ৪০০০ কোটি টাকার সুকুক নিলাম ৯ জুন

আপডেট : ০২ জুন ২০২১, ১২:৫১ এএম

সারা দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক (ইজারা সুকুক) ইস্যুর নিলাম আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইসলামিক সিকিউরিটিজ সেকশনে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

সুকুক ইস্যুর নিলামের দিন ধার্যের বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, নিলামের মাধ্যমে ৪ হাজার কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের ইজারা সুকুক ইস্যু করা হবে, যা মেয়াদোত্তীর্ণ হবে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর। এ সুকুকে বিনিয়োগের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ রেন্ট বা মুনাফা ষাণ¥াষিক ভিত্তিতে পরিশোধ করা হবে।

নিলামে দেশি-বিদেশি যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে অবস্থিত যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব রয়েছে তাদের মাধ্যমে বিড দাখিল করতে পারবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজের জন্য বা যেকোনো ক্লায়েন্টের জন্য ১০ হাজার টাকার গুণিতক পরিমাণে সুকুক ক্রয়ের জন্য নিলামে অংশ নিতে পারবে।

আগামী ৯ জুন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে দর দাখিল করা যাবে। কৃতকার্য দরদাতাদের তাদের আবেদনের বিপরীতে বরাদ্দকৃত সুকুকের পরিমাণ একই দিনে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হবে। নিলামপরবর্তী কার্যদিবসে অর্থাৎ ১০ জুন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রক্ষিত আল-ওয়াদিয়াহ বা চলতি অ্যাকাউন্ট ডেবিট এবং সিকিউরিটিজ হিসাব ক্রেডিট করে এ লেনদেন সম্পন্ন করা হবে।

ইতিপূর্বে প্রথম ধাপে এ প্রকল্পের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের ইজারা সুকুক ইস্যু করা হয়েছিল। গত ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সুকুকের প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ওই দফার নিলামে মোট বার্ষিক ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ মুনাফা পাচ্ছেন সুকুক বন্ডধারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

প্রসঙ্গত, ইসলামিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুদভিত্তিক কারবার করে না বলে সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারে না। সুকুক চালুর ফলে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিকল্প হিসেবে এ খাতে বিনিয়োগ করে কিছু মুনাফা করতে পারছে।

প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো যেমন বিনিয়োগ করা ট্রেজারি বিল ও বন্ড তাদের বিধিবদ্ধ তারল্য মজুদ বা এসএলআর হিসেবে দেখাতে পারে, তেমনি ইসলামিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সুকুককে এসএলআর হিসেবে দেখাতে পারবে।

জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় এই বন্ডের ইজারাদার ও সার্ভিসিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। সরকার বিনিয়োগ সুকুক গাইডলাইন, ২০২০ অনুসারে সুকুক ইস্যুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (এসপিভি) এবং ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত