উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন সাধারণত বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। শিশুদের মধ্যেও অনেকের উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা দেখা যায়। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিশুদের মধ্যে ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিশু উচ্চ রক্তচাপে ভোগে। এর মধ্যে বেশির ভাগ শিশুর বয়স ১২ থেকে ১৮ বছর। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণ এবং কী কী করণীয় তা এখানে তুলে ধরা হলো
রক্ত যখন ধমনি দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন এটি ধমনির দেয়ালে যে চাপ সৃষ্টি করে এটিকে বলা হয় রক্তচাপ। এই চাপ বেড়ে গেলেই এটিকে উচ্চ রক্তচাপ বলে। এই রক্তচাপ হার্টের পাম্পিংয়ের ওপর যেমন নির্ভর করে, তেমনি ধমনির ব্যাসার্ধের তারতম্যেও উচ্চ রক্তচাপ কমবেশি হতে পারে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বড়দের মতো নরমাল রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ নেই। বাচ্চাদের বয়স, উচ্চতা এবং লিঙ্গ অনুযায়ী রক্তচাপ নির্ণয়ের নির্দিষ্ট চার্ট আছে। বাচ্চার রক্তচাপ পরিমাপের পর সেই চার্টে ফেলে যদি তা ৯৫ পারসেন্টাইলের বেশি আসে, সেটিকে তখন উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিভাবকদের জানার অজ্ঞতা এবং রক্তচাপ পরিমাপের সঠিক পদ্ধতি না জানায় বাচ্চাদের উচ্চ রক্তচাপের বিষয়টি অজানা থেকে যায়।
কারণ
বড়দের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ যেমন অজানা, যেটিকে বলা হয় প্রাইমারি হাইপারটেনশন, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটি খুব বেশি পাওয়া যায় না। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাধারণত সেকেন্ডারি হাইপারটেনশনটাই বেশি পাওয়া যায়।
সাধারণত অতিরিক্ত ওজন এবং বংশগত কারণে বাচ্চাদের উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে।
এ ছাড়া হৃৎপিণ্ডের জন্মগত রোগ, কিডনির সমস্যা এবং হরমোনাল সমস্যা যেমন হাইপারথাইরয়ডিজম, কুশিং সিন্ড্রম থাকলেও শিশুদের উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে।
কিছু কিছু ওষুধ যেমন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ অনেক দিন সেবন করলে উচ্চ রক্তচাপ হয়।
বিভিন্ন টিউমার যেমন কিডনি, আড্রেনাল গ্ল্যান্ডে টিউমার হলে উচ্চ রক্তচাপ হয়।
লক্ষণ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাচ্চারা উপসর্গহীন থাকে।
মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা থাকতে পারে।
বেশি ঘাম হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, চোখে ঝাপসা দেখা এই সমস্যাগুলো হতে পারে।
করণীয়
স্থূল বাচ্চাদের ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত থাকে।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং আউটডোর গেমসের ব্যবস্থা করতে হবে।
ঘরে তৈরি টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে, বাইরের ফাস্টফুড, বেকারি ফুড পরিহার করতে হবে।
অতিরিক্ত লবণ খাওয়া যাবে না।
প্রতিটি বচ্চার বিশেষ করে স্থূল বাচ্চা এবং যাদের এমন রোগ রয়েছে যাতে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বেশি তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর সঠিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ পরিমাপ করতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপের সেকেন্ডারি কারণ যেমন কিডনি, হৃৎপিণ্ডের সমস্যা, হরমোনাল সমস্যা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো চিকিৎসা করাতে হবে।
