ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিক্রিয়া: ব্যবসাবান্ধব, তবে সংশোধনী প্রয়োজন

আপডেট : ০৩ জুন ২০২১, ০৯:৫৮ পিএম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ব্যবসাবন্ধব বলছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তবে এ বাজেটের কিছু বিষয়ে সংশোধন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা। সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, অগ্রীম আয়কর (এআইটি) কমানো বা বাড়ানোর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এ হারের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করা। এ ছাড়া ব্যবসায় পরিবেশ সূচকের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা এবং সরকারের সবগুলো সংস্থার আন্তরিকতার প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দীন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ৫ শতাংশ অগ্রীম আয়কর (এআইটি) ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা অগ্রীম আয়কর (এআইটি) বিলুপ্ত করার জন্য প্রস্তাব করেছিলাম কিন্তু এ বিষয়ে বাজেটে কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। অগ্রীম আয়কর যথাযথ সমন্বয়/রিফান্ড না হওয়ায় পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পায়। পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনপূর্বক অগ্রীম আয়কর যথাসময়ে সমন্বয় করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরো সুদৃঢ় করতে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট প্রণয়নে জোন চেষ্টা গ্রহণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা প্রস্তাবিত বাজেট আরো বিশ্লেষণ করছি। আমাদের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া আপনাদের সামনে আগামী ৫ জুন তুলে ধরব।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের পরিচালক ও পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘এ বাজেট নিঃসন্দেহে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। বাজেটে দেশীয় শিল্পকে প্রাধান্য দিয়ে ভ্যাট আগের অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে। তবে সমস্যা হলো, সরকারের নীতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা খুবই কম দেখা যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) থেকে আমাদের নিয়মিত হয়রানির শিকার হতে হয়। আমরা অগ্রীম ট্যাক্স দেই। কিন্তু ওই হার ধরে চূড়ান্ত ট্যাক্স হিসাব না করে বছর শেষে আবারও ঝামেলা করা হয়। ব্যবসায় পরিবেশ সূচকের উন্নয়নে প্রতি বছরই সরকার উদ্যোগ নেয়, কিন্তু সমন্বয়হীনতা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাবে তার ফল আমরা পাচ্ছি না। এতে করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আমাদের পক্ষ থেকে দাবি হলো, সব পক্ষকে অন্তর্ভূক্ত করে ৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদী একটা পরিকল্পনা করা। এতে করে নীতিগুলো বাস্তবায়ন সহজ হবে, আমরাও পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করতে পারব।’

প্রস্তাবিত বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অন্তর্ভূক্তিমূলক বাজেট উল্লেখ করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টিজের (ডিসিসিআই) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘বর্তমান বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি ও অর্থায়ন একটি চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপির এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে করোনা সংক্রমণ রোধ করা এবং সবার জন্য করোনা টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। যদিও এটি একটি ব্যয়বহুল বাজেট, এর মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের আর্থিক প্রণোদনা, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি ও জনগণকে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় বরাদ্দে উদ্যোগ রয়েছে। জীবন-জীবিকার ভারসাম্য রক্ষায় এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হয়েছে বলে ডিসিসিআই বিশ্বাস করে। তবে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হবে, তাই রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত