উড়োজাহাজ, চলন্ত ট্রেন ও বাসে নামাজ আদায়

আপডেট : ০৪ জুন ২০২১, ১২:০৫ এএম

প্রশ্ন : চলন্ত জাহাজ, উড়ন্ত উড়োজাহাজ, এবং চলন্ত বাস ও ট্রেনে নামাজ আদায়ের বিধান কী?

উত্তর : চলন্ত জাহাজ, উড়োজাহাজ, ও ট্রেনে দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদার সঙ্গে নামাজ আদায় করা সম্ভব হলে কিবলার দিক ঠিক করে দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদাসহ দ্রুত ফরজ নামাজ আদায় করে নেবেন। এক্ষেত্রে নামাজের মধ্যে বাহন ঘুরে গেলে নামাজিও কেবলার দিকে ঘুরে যাবেন। এভাবে নামাজ পড়তে পারলে পরবর্তী সময়ে এ নামাজ আর কাজা পড়তে হবে না। কিন্তু এসব অবস্থায় কারও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় কষ্টসাধ্য হলে সে বসে বা যেভাবে সম্ভব সেভাবেই নামাজ আদায় করে নেবেন এবং পরবর্তী সময়ে এ নামাজ কাজা করে নেবেন।

আর বাসে যেহেতু দাঁড়িয়ে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করা যায় না তাই কাছাকাছি যাতায়াতের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাস থেকে নেমে নামাজ আদায় করতে হবে। যেমন ঢাকার ভেতরেই বনানী থেকে যাত্রাবাড়ি, সাভার থেকে ঢাকা ইত্যাদি যাতায়াতের সময় গন্তব্যস্থলে পৌঁছে নামাজের সময় থাকবে না মনে হলে স্বাভাবিক অবস্থায় পথিমধ্যে নেমে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। কিন্তু দূর-দূরান্তের সফর যেখানে পথিমধ্যে বাস ছেড়ে নামাজের জন্য নেমে গেলে অসুবিধায় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং বাস তার জন্য অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত নয় সেক্ষেত্রে সম্ভব হলে দুদিকের সিটের মধ্যে কেবলামুখী হয়ে রুকু সিজদাসহ পূর্ণাঙ্গ রূপে নামাজ আদায় করতে হবে। অবশ্য এতে যদি দাঁড়ানো থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে কিছুতে হেলান দিয়ে বা হাতে ধরেও অবস্থান করা যাবে এবং প্রয়োজনে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত বাঁধা বা রুকু অবস্থায় হাঁটুতে হাত রাখা না গেলেও অসুবিধা নেই। আর যদি কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পূর্ণরূপে রুকু সিজদা করা না যায়, যেমন গাড়ি দক্ষিণমুখী বা উত্তরমুখী হয় তাহলেও কেবলামুখী দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবেন এবং যথারীতি রুকু করে সিজদার সময় পেছনের সিটে বসে সামনের সিটে সিজদা করবেন। এক্ষেত্রে সামনের সিটে সিজদার সুযোগ না থাকলে বসে ইশারায় সিজদা করবেন। আর যদি পেছনের সিটে বসার সুযোগ না থাকে তাহলে শুরু থেকেই পুরো নামাজ নিজের সিটে কেবলামুখী বসে ইশারায় রুকু সিজদা করে আদায় করবেন। এ ছাড়া কেবলামুখী হওয়া বা দাঁড়ানো যদি সম্ভব না হয় তাহলে যেভাবে সম্ভব সেভাবেই আদায় করে নেবেন।

মনে রাখতে হবে, যে অবস্থায় দাঁড়ানো বা কেবলামুখী হওয়া সম্ভব হয় না সে অবস্থার নামাজ পুনরায় কাজা করে নিতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে এ নামাজ কাজা করে নেবেন।

উল্লেখ্য, বাসের মালিক ও চালকরা যেন নামাজের সময়গুলোতে কোনো মসজিদে অন্তত ফরজ পড়ার জন্য নিয়মিত বিরতি দেয় সে ব্যাপারে যাত্রীদের সচেতন হওয়া আবশ্যক। আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৮৮

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত