অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট

আপডেট : ০৪ জুন ২০২১, ১২:০৯ এএম

প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটকে ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট’ বলে অভিহিত করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সেই সঙ্গে এ বাজেট বাস্তবায়ন, ঘাটতি মেটানো এবং রাজস্ব আদায় ও সম্প্রসারণে আরও বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে তাৎক্ষণিকভাবে এ প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা চেম্বার।

এতে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতি করোনায় বিপর্যস্ত। এ কঠিন সময়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঘোষিত জাতীয় বাজেটে প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ ও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময়ে এ রূপ অগ্রগতিমূলক ও অর্জনযোগ্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আমাদের মাঝে আশার সঞ্চার করছে। কভিডকালীন বাংলাদেশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সারা বিশ্বে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক। তাই এ ধরনের উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে উত্তরণ ঘটাতে হবে, যা অনেকাংশে চ্যালেঞ্জিং। তবে বাজেটে করোনা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষি পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তাবলয় বৃদ্ধিকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় ডিসিসিআই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি ও অর্থায়ন একটি চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপির এ উচ্চপ্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে করোনা সংক্রমণ রোধ এবং সবার জন্য করোনা টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের আয়তন ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা বিগত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১১ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি এবং মোট জিডিপির আকার দাঁড়াবে আনুমানিক ৩৪৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। ডিসিসিআই মনে করে, নতুন বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। সাধারণত ঘাটতি বাজেট ৫ শতাংশ হয়ে থাকে, যা গত বছর ৬ দশমিক ১ শতাংশ ছিল। তাই করোনাকালীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে এ ঘাটতি বাজেট সহনশীল, যা জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যয় হতে পারে।

২০২১-২২ অর্থবছরে ঘাটতি বাজেট পূরণে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ নেবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে সংশোধিত ঘাটতি বাজেটের ঋণের তুলনায় ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ কম।

অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এ অর্থবছরে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির আড়াই শতাংশ করপোরেট কর হার কমানো হয়েছে। এই ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ডিসিসিআই। তবে করপোরেট করহার পর্যায়ক্রমে আরও কমানো প্রয়োজন, যাতে কভিড-পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারেন।

বাজেটে দেশি শিল্প বিকাশে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে হোম অ্যাপ্লায়েন্স সামগ্রী, তথ্যপ্রযুক্তি, সিমেন্ট, স্টিল, ইলেকট্রনিক ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। করোনাকালীন বিশ্বব্যাপী রপ্তানি কমেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত