ঢিলেঢালা বলে গরমের দিনে স্কার্ট বেশ আরামদায়ক। গরমের সময়টাতে মেয়েরা ক্যাজুয়াল ও ফরমাল পোশাক হিসেবে স্কার্ট বেছে নিচ্ছেন। অনেকে লং স্কার্ট পরতে স্বাছন্দ্যবোধ করেন। আবার টিনরা মাঝারি লেন্থের স্কার্ট বেশি পরেন। স্কার্টের অনেক ধরন আছে যেমন লং স্কার্ট, মিনি স্কার্ট, মাইক্রো স্কার্ট, জিপসি স্কার্ট, প্লিটেড স্কার্ট, পেপলাম স্কার্ট। রকমারি স্কার্ট নিয়ে লিখেছেন মোহসীনা লাইজু
নানা রকমের স্কার্ট
ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের ফ্যাশন হাউজগুলোতে নানা কাটের স্কার্ট দেখা যায়। কোনো স্কার্টের কলি উঁচু-নিচু বা অসম। আবার কোনোটার সামনে একটু উঁচু আর পেছনে ঝোলানো, কিংবা ভাঁজ ভাঁজ করা। কিছু স্কার্ট আছে থ্রি-কোয়ার্টার সার্কুলার। এর ঘের বৃত্তাকার। আর ঘের বৃত্তাকার হওয়ার কারণে এই স্কার্ট কোমরের থেকে নিচের কুঁচির ঘের অনেক বেশি হয়। তবে সার্কুলার স্কার্ট সব ধরনেরই হয়। যেমন লং সার্কুলার, শর্ট সার্কুলার ও থ্রি-কোয়ার্টার স্কার্ট। স্কার্টে তিন স্তর নেট কাপড় দেওয়া থাকে। এই ধরনের স্কার্টের সঙ্গে বডিফিটেড টপ পরলে ভালো মানায়।
আবার যাদের পা খুব সুন্দর তারা মিডিয়াম লেন্থের স্কার্ট বেছে নিতে পারেন। মিডিয়াম লেন্থের কিছু স্কার্টে দুই লেয়ারের কাপড় থাকে। নিচের লেয়ারের কাপড়টি প্লেইন আর ওপরের লেয়ারের কাপড়টি নেটের ওপর এমব্রয়ডারি বা জরির কাজ। লং-স্কার্টের সঙ্গে মানানসই টপও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যারা লং-স্কার্ট পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তারা লং-স্কার্টের সঙ্গে টি-শার্ট বা শার্ট পরতে পারেন। একটু সিøম হলে বেছে নিন ছোট ফতুয়া, ব্লাউজ বা টি-শার্ট। একটু মোটাদের জন্য দরকার হিপের নিচ পর্যন্ত লম্বা টপস।
নিচের ঘের বেশি থাকলে পরতে বেশ আরামদায়ক হয়। যাদের কোমরের দুই পাশ একটু মোটা তাদের জন্য মাঝারি লেন্থের স্কার্ট উপযোগী। এই ধরনের স্কার্ট একটু ফোলানো থাকে। স্কার্টের নিচে এক পার্ট মোটা প্লেইন কাপড়, তার ওপর দুই লেয়ার নেট কাপড়ের ওপর জরি দিয়ে কাজ করা থাকে। স্লিম স্কার্ট বা এ লাইনের স্কার্ট সাধারণত যাদের উচ্চতা বেশি তারা পরতে পারেন। এই ধরনের স্কার্ট সেমি-লং হয়। ঘের বেশি না থাকায় এক পাশের হাঁটুর ওপর থেকে কাটা থাকে। এতে করে হাঁটার সময় পা দেখা যায়। পায়ের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুুলতে স্লিম স্কার্ট খুব ভালো অপশন। এই স্কার্টের সঙ্গে লম্বা ব্লেজার অথবা টপ মানাবে। তবে টপস স্কার্টের ভেতরে ঢুকিয়ে অনেকটা ইন করার মতো করে পরতে হবে। এসব স্কার্টের অনেকগুলোতে ফিতা জুড়ে দেওয়া হয়। তাই পরার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোমরের ফিতা না দেখা যায়। তবে টিন ও তরুণদের জন্য এই ধরনের স্কার্ট উপযুক্ত। সিøম হলে সব বয়সীরাই পরতে পারবেন।
প্লিট দিয়ে তৈরি স্কার্টকে প্লিটেড স্কার্ট বলে। যারা ফ্যাশন সচেতন এই ধরনের স্কার্ট তাদের জন্য উপযুক্ত। প্লিটেড স্কার্টের ঘের অনেক বেশি থাকে এবং ভাঁজ ভাঁজ করা। স্কার্টটির লেন্থ একটু কম হাঁটুর একটু নিচ পর্যন্ত হয়। এ স্কার্টের সঙ্গে ট্যাঙ্ক টপ পরতে পারেন। ডেনিম বা লেইসের কটিও পরা যায়। স্কার্টে একটু ঘের বেশি থাকলে সব ধরনের দৈহিক আকারের সঙ্গে মানিয়ে যাবে।
ফেব্রিকস
সুতি থেকে হালের অরগাঞ্জা সব ধরনের ফেব্রিকস দিয়েই স্কার্ট তৈরি হচ্ছে। তবে কোন ধরন ও কাটের স্কার্ট হবে সেটার ওপর ফেব্রিকস নির্ভর করবে। সব ফেব্রিকসে সব ধরনের স্কার্ট মানায় না। ঘরে পরতে চাইলে আরামদায়ক ফেব্রিকস হিসেবে সুতি, নিট, জুট কটন, লিনেন এই ধরনের ফেব্রিকস বেছে নিতে পারেন। অফিস, দাওয়াত, আড্ডা, ক্লাস কিংবা পার্টিতে পরার জন্য ডেনিম, সার্টিন, নেট, ব্রোকেট, ভিসকস, টুয়েল, জর্জেট ও সিল্কই উপযুক্ত হবে।
কোথায় কেমন
পার্টিতে, বাড়িতে কিংবা অফিসে যেকোনো জায়গাতেই স্কার্ট পরা যায়। তবে কোথায় কোন ধরনের স্কার্ট পরতে হবে সে বিষয়ে জানতে হবে। নয়তো ফ্যাশন ট্রেন্ডে আপনি পিছিয়ে পড়তে পারেন। অফিসে পরার জন্য আদর্শ এ লাইন বা পেনসিল স্কার্ট। হালকা, গাঢ় আর নিউট্রাল রঙের পেনসিল স্কার্ট বেছে নিতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, শপিং বা সিনেমা দেখতে যাওয়ার জন্য আদর্শ মিডি স্কার্ট। আর মিডি স্কার্ট এক রং বা ফ্লোরাল প্রিন্টের হলে ভালো মানাবে। পলকা ডট, প্রিন্টেড কিংবা চেক মোটিফের ফ্লার্টি স্কার্ট পরে ঘরে-বাইরে দু’জায়গাতেই পরা যায়। যাদের অফিসে ড্রেস কোডের বাধ্যবাধকতা নেই তারা সফট ডেনিম ও সার্টিন স্কার্টও পরতে পারেন। আর যদি ঘরেও স্কার্ট পরতে চান তাদের জন্য আদর্শ হবে মিডেল লেন্থের নিট, কটন বা লিনেনের স্কার্ট।
কেনার সময়
লেইস, ফ্রিল কিংবা লেয়ার কাটের স্কার্ট পরলে সফট এলিগেন্ট ভাব ফুটে উঠবে। যারা অ্যাভেঞ্চারাস কিংবা স্টাইলিশ তারা কিনতে পারেন চামড়ার স্কার্ট। খুব স্পোর্টি হলে কিনুন ডেনিমের শর্ট স্কার্ট। অফিসে পরে যাওয়ার জন্য বেছে নিন মিডি স্কার্ট। হাঁটাচলা ও কাজকর্মে বেশ সুবিধা হবে। এছাড়া যে কোনো ফরমাল অনুষ্ঠানের জন্য কিনুন হাঁটু ঝুল স্কার্ট। লং-স্কার্ট কিনুন রাতের কোনো অনুষ্ঠানের জন্য খুব স্টাইলিশ লাগবে।
স্কার্ট তো কিনলেন। কিন্তু স্কার্টের ওপরের অংশ নিয়েও আপনাকে ভাবতে হবে। ক্যাজুয়াল স্কার্টের সঙ্গে টি-শার্ট আর ব্লাউজ কিনুন। সেই সঙ্গে রাখুন কয়েকটি বেসিক রঙের ট্যাঙ্ক টপ। স্টাইলিশ ভি নেক ব্লাউজও পরতে পারেন। সাদা ড্রেস শার্ট, ডেনিম শার্ট আর সলিড কালারের অফ শোল্ডার টপও অনেক ধরনের স্কার্টের সঙ্গে পরা যায়।
স্কার্টের সঙ্গে জুতার ব্যাপারেও সচেতন হতে হবে। কালো পাম্প, স্টিলেটো, ন্যুড ওয়েজ হিল, স্ট্র্যাপি স্যান্ডাল, কেডস, ফ্ল্যাট পাম্পস, গোড়ালি পর্যন্ত ঢাকা বুট দিয়ে নানা ধরনের স্কার্ট পরতে পারবেন।
কোথায় পাবেন
বাজারে ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড দুধরনের শপেই স্কার্ট পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডের স্কার্টের কাটিং প্যাটার্ন ও ফেব্রিকসের ওপর নির্ভর করে দাম । ভালো মানের ব্র্যান্ডের স্কার্ট কিনতে আপনাকে গুনতে হবে ১২০০ থেকে ৩০০০ টাকা। আর নন-ব্র্যান্ডের সাধারণ ফেব্রিকসের স্কার্ট কিনতে পারবেন ২০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ং থেকে শুরু করে দেশি ফ্যাশন হাউজগুলোতে মিড লেন্থ ও লং লেন্থের স্কার্ট পাওয়া যায়। আর নন-ব্র্যান্ডের হাউজগুলোতে নানা ফেব্রিকস ও কাটের স্কার্ট রয়েছে।
