সঠিক তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ায় পাকিস্তানে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননা আইনে সাত বছর আগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া এক খ্রিস্টান দম্পতিকে খালাস দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। গত বৃহস্পতিবার এ রায় দেওয়া হয়। দম্পতিটি ২০১৪ সালে একটি মোবাইল ফোন বার্তায় হজরত মুহাম্মদকে (স.) নিয়ে কটূক্তি করেছে এমন অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। শাগুফতা কাউসার একটি স্থানীয় খ্রিস্টান স্কুলের কেয়ারটেকার। তার স্বামী শাফাকাত ইমানুয়েল আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত।
খালাস পাওয়ার পর তাদের আইনজীবী সাইফ উল মালুক বলেন, ব্লাসফেমি আইনের কাছে অসহায় এ দুজন মানুষের খালাস হওয়ায় তিনি আনন্দিত। আইনজীবী আশা করেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই দম্পতি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তানের মানবাধিকার সংগঠনগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ডেপুটি ডিরেক্টর দিনোশিখা দিশানায়াকে আদালতের এমন সিদ্ধান্তকে অভূতপূর্ব বলেছেন।
পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত উচ্চ আদালত এর দায়ে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেনয়নি। তবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পাকিস্তানে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে উত্তেজিত সাধারণ মানুষের হাতে নিহত হতে হয়েছে। পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইন নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। ২০১০ সালে ব্লাসফেমির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পান আসিয়া বিবি। আট বছর জেল খাটার পর ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাকে মুক্তির আদেশ দেয়।
মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ব্লাসফেমি আইন বাতিলের চেষ্টা করছেন। তাদের যুক্তি, এই আইন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতন বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১৯৮৭ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ৮৫৫ জনকে ধর্ম অবমাননায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। দেশটিতে বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী খ্রিস্টান, সংখ্যায় তারা প্রায় ২৮ লাখ। ব্লাসফেমি আইনের সবচেয়ে বেশি শিকার এরাই।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ওপেন ডোরস ইউএসএ’র ২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড ওয়াচ অনুযায়ী, খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বে পাকিস্তানের অবস্থান পঞ্চম।
