ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যার একটি এন এইচ এন্টারপ্রাইজ। অফিস ভাঙচুরের সময় ড্রয়ারে থাকা লক্ষাধিক টাকা লুটের অভিযোগও করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক নেজামুল হক। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন গেস্ট হাউজ প্রকল্পের পাশেই এন এইচ এন্টারপ্রাইজের অস্থায়ী অফিসে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নেজামুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অস্থায়ী অফিসে পাঁচজন শিক্ষার্থী পরিচয়ে এসে ম্যানেজার কে এই কথা বলেই ভাঙচুর শুরু করে এবং ড্রয়ার থেকে লক্ষাধিক টাকা লুট করে চলে যায়। কাজ করতে এসে আমরা হামলার শিকার। হঠাৎ করে এসে হামলা। আমাদের অফিসের মালামাল ভাঙচুর করেছে। এক লাখ টাকার ওপর ছিল ড্রয়ারে, সেটিও লুট করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি, পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণেও কাজ করছি।
অন্যদিকে গত বুধবার দশতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে এস বি এলের প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প সংলগ্ন অস্থায়ী কার্যালয়েও হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বরত প্রকৌশলী সন্তোষ কুমার সরকার।
হামলার বর্ণনা দিয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে পাঁচজন ব্যক্তি শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে জিজ্ঞেস করেন ম্যানেজার কোথায়? ম্যানেজার বাইরে আছে বললে লোহার পাইপ দিয়ে আমাদের অফিস ভাঙচুর করে চলে যাওয়ার আগে একটি ফোন নম্বর দিয়ে ম্যানেজারকে দ্রুত যোগাযোগ করতে বলে। পরে সেই নম্বরে কল দিয়ে আমরা দেখি অন্য এক মহিলার নম্বর দিয়েছে, যা এই পাঁচজনের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। হামলাকারীরা ম্যানেজার যেন আর কাজে না আসে এটিও বলে যায়। ঘটনাটি আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের অফিসের জানালার গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের কিছু নমুনা পাওয়া গেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসে হামলার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কে বা কারা করেছে তা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।’
হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও ওয়ার্কার্স দপ্তর প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দুটি সাইটে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনা দুঃখজনক। জুন মাসে অর্থ ছাড়ের এই সময়ে কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।’
এর আগেও বন্ধ ক্যাম্পাসে একাধিকবার শিক্ষার্থী পরিচয়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এবার বন্ধ ক্যাম্পাসে পরপর দুদিন একইভাবে শিক্ষার্থী পরিচয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল। হামলার দুদিন আগে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে কিছু চেয়ার-টেবিল দাবি করা হয়। তবে টেবিল-চেয়ার চাওয়া ওই ব্যক্তিরাই হামলার সঙ্গে যুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুদিন পরপর শিক্ষার্থী পরিচয়ে বিভিন্ন চাহিদা জানানো হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। তা পূরণ করতে ব্যর্থ হলেই কাজ বন্ধ কিংবা হামলার ঘটনা ঘটায়। সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয় দিলেও একটি সিন্ডিকেট এই ঘটনাগুলো ঘটায়।’
