সরকারের সব পরিকল্পনার মূলে দুর্নীতি ও লুটপাট বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলের জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে প্রাপ্ত অর্থের অর্ধেক সরকার লুট করেছে এবং বাকি অর্ধেক ফেরত পাঠিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক দুর্যোগ : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় দেশে-বিদেশে রাজনৈতিক নেতাদের কমিটমেন্টের প্রয়োজন। দুদিন আগে সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে। সে বাজেটে দেখেন তো পরিবেশ প্রকৃতির ওপর কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্লাইমেট চেঞ্জের ওপর বিশ্বব্যাংকের একটা ফান্ড আছে। সে ফান্ড থেকে গত কয়েক বছর ধরে সরকার ৭শ কোটি টাকা ফান্ডও পেয়েছে। ফান্ডের অর্ধেক সরকার খেয়ে ফেলেছে, আর বাকি অর্ধেক ফেরত দিয়েছে। আসলে সরকারের কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য ছিল লুট করা। লুট করা ছাড়া তাদের আর কোনো কর্মকা- আমি দেখতে পাই না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার বড় বড় মেগা প্রজেক্ট করছে। এই মেগা প্রজেক্টগুলো কেন? বারবার করে বলছি করোনা থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য নগদ টাকা সরবরাহ করতে। সেদিকে সরকারের কোনো লক্ষ্য নেই। তারা এ জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। মেগা প্রজেক্টের জন্য এবারও দিয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। যেটা এই মুহূর্তে কোনো প্রয়োজন নেই। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মানুষকে বাঁচানোর।’
২০০১-২০০৫ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৪দলীয় জোট সরকারের আমলে পরিবেশ রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়া পরিবেশের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা ইকো ব্যালেন্স রক্ষা করার জন্য। এই যে উপকূলের সবুজ বেষ্টনী, সে সময় লাখ লাখ গাছ লাগানো হয়েছিল। রাস্তার ধারে গাছ লাগানোর মাধ্যমে সামাজিক বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির তিনটি উদ্দেশ ছিল। ইরিগেশনের জন্য প্রাকৃতিক পানি সংরক্ষণ করা, মাছের চাষ করা এবং খালের দুই ধারে বাগান তৈরি করা।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের অস্তিত্বের কারণে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির দ্বন্দ্ব। মানুষ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, জীবিকার প্রয়োজনে, সভ্যতার প্রয়োজনে বন, নদী ও পানি নষ্ট করে, বড় বড় কংক্রিটের বস্তি গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করে, সে সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত এই প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করছি। আমরা চাঁদে যাচ্ছি, মঙ্গল গ্রহে যাচ্ছি।’
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দানব সরকার সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। কিন্তু হতাশ হওয়া যাবে না। পরিকল্পিতভাবে লড়াই-সংগ্রাম করেই আমাদের এগুতে হবে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অতি দ্রুত সুস্থ হয়ে সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবেন।’
বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, প্রফেসর আবদুল লতিফ মাসুম, ড. মো. আকতার হোসেন, অধ্যাপক জামাল উদ্দীন নুরু, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন প্রমুখ।
প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতেই সারা দেশে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে সরকার : কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচি পালনকালে রাজধানীতে ঢাকা মহানগর উত্তর, জয়পুরহাট, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চলমান ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতেই বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে অবৈধ সরকার। আর সেই গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।’
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয়তাবাদী শক্তি ধ্বংসে সরকারি চক্রান্ত ও নীলনকশা ব্যর্থ হবে। সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা দমন-নিপীড়ন উপেক্ষা করে আরও প্রতিবাদী হয়ে উঠবে।’
