দাবি-দাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিচালকদের বৈঠক

আপডেট : ০৬ জুন ২০২১, ০৬:২৩ পিএম

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ে। ৬ জুন রবিবার তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন তারা। জানা যায়, তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এফডিসির ফ্লোর, ক্যামেরাসহ অন্যান্য জিনিসের ভাড়া কমানোর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া চলচ্চিত্রের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন তারা।

পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘এটা আসলে আমাদের তার সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আমাদের বর্তমান কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক কোন সাক্ষাৎ হয়নি, তাই এ বৈঠক। সেখানে আমরা চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ও এর উন্নয়নে নানান দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছি তার কাছে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মূল সূতিকাগার হচ্ছে এফডিসি। দেশের একমাত্র পরিপূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাণ স্টুডিও। এক সময় যেখানে নির্মাতাদের ভিড় লেগে থাকতো, বর্তমানে একদিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে গেছে আরেকদিকে যা নির্মিত হচ্ছে তার বেশিরভাগই এফডিসির বাইরে নির্মিত হচ্ছে। অথচ এফডিসিতে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। পরিচালক-প্রযোজকেরা সেখানে যাচ্ছে না, নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে। ধরেন, বাইরে যে ক্যামেরার ভাড়া ৩ হাজার সেটা এফডিসিতে ভাড়া ৩০ হাজার টাকা। একজন পরিচালক-প্রযোজক কেন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে এফডিসি থেকে ক্যামেরা নিবে। আমরা মন্ত্রীকে বলেছি, কম লাভে যদি এফডিসি পরিচালিত হয় তাহলে চলচ্চিত্র যেমন লাভবান হবে তেমনি তেমনি প্রতিষ্ঠানটি লোকসান থেকে উঠে আসতে পারবে। মন্ত্রী এফডিসির এমডিকে বলেছে বিষয়টি দেখতে। এমডি আমাদের কাছে বাইরে কোথায় কত করে ভাড়া তা জানাতে বলেছেন।

করোনাকালীন দেশের সকল সিনেমা হল বন্ধ ছিল টানা সাত মাস। এরপর গত বছরের অক্টোবরে হল খুলে দেওয়ার পরও অধিকাংশ হল মালিক হল খুলেননি। হলগুলো সংস্কার, নতুন হল নির্মাণের জন্য সরকার গত নভেম্বরে ১০০০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। যেখান থেকে স্বল্প সুদে হল মালিকরা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। অথচ এখন পর্যন্ত খুব কমসংখ্যক হল মালিক এর জন্য আবেদন করেছে।

সোহান বলেন, মন্ত্রী আমাদের বলেছেন হল মালিকদের ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে। আমরা তাকে বলেছি শুধু হল মালিকদের না চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। যে ঋণ এফডিসির মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নিয়মিত পরিচালকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তাতে করে হল মালিকরা ভালো ছবি পাবেন এবং দর্শক হলে ফিরতে শুরু করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত