নবম-দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ১১:২০ পিএম

দ্বিতীয় অধ্যায় : স্বাধীন বাংলাদেশ

সৃজনশীল

ক. ২৫ মার্চকে কোন দিবস হিসেবে পালন করা হয়?

খ. ‘সেনাশাসন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করে’ কথাটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের চিত্র কোন আন্দোলনকে নির্দেশ করে আলোচনা করো।

ঘ. ‘উক্ত আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা শুরু হয় মূল্যায়ন করো।

উত্তর

ক. ২৫ মার্চকে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

খ. সেনাশাসনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়। জনগণের মতামত প্রকাশের কোনো সুযোগ থাকে না। ভোটাধিকার প্রয়োগের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সুস্থ ও সর্বজনীন রাজনীতি করার ক্ষেত্রগুলো অবলুপ্ত হয়। সামরিক সরকার অস্ত্রের জোরে ইচ্ছেমতো রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এতে লুটেরা শ্রেণির দৌরাত্ম্য পরিলক্ষিত হয়। ফলে গণতন্ত্র নিজ গতিতে সামনে অগ্রসর হতে পারে না। তাই বলা যায়, সেনাশাসন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করে।

গ. উদ্দীপকের চিত্র ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী গণ-আন্দোলনকে নির্দেশ করে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন প্রতিহত করার জন্য ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫-দলীয় ঐক্যজোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭-দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। সামরিক শাসনকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ১৫ দল ও ৭ দল ৫ দফা দাবি ঘোষণা করে। ৫ দফা দাবির মূল দাবি ছিল অবিলম্বে সামরিক শাসন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং যেকোনো নির্বাচনের আগে সার্বভৌম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান।

এ আন্দোলনে রাজনৈতিক দল ছাড়াও ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষিবিদসহ সর্বস্তরের শ্রেণিপেশার জনগণ অংশগ্রহণ করে। তাই এ আন্দোলন গণ-আন্দোলন থেকে ক্রমান্বয়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন বুকে ও পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’, ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। সেদিন ঢাকার জিপিওর কাছে জিরো পয়েন্টের সামনে নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এতে আন্দোলনকারী জনতা ক্ষুব্ধ হয়। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর বিএমএ নেতা ডাক্তার সামসুল আলম মিলন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন চরমপর্যায়ে পৌঁছায়। সংঘটিত হয় এরশাদবিরোধী ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান। এ সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮-দলীয় জোট, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭-দলীয় জোট এবং ৫-দলীয় বামজোট একটি অভিন্ন কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ হলে ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ঘ. সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল বাংলাদেশের জনগণ ভালো চোখে দেখেনি। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে ও পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’, ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ সেøাগান লিখে ঢাকার জিপিওর কাছে জিরো পয়েন্টের সামনে নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সংঘটিত হয় এরশাদবিরোধী ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান। ২৯ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে পদত্যাগ করেন এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮-দলীয় জোট, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭-দলীয় জোট এবং ৫-দলীয় বামজোট একটি অভিন্ন কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ হলে ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৬ ডিসেম্বর তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের

নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে জেনারেল এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯০ সালে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে (এরশাদ সরকারের) এবং গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা শুরু হয়। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক ধারা চালু হয়। সংসদীয় সরকার পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। দেশে অবাধ তথ্যপ্রবাহ সৃষ্টি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পত্রপত্রিকার ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার ইত্যাদির ব্যবস্থা হয়। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পৃথিবীতে পরিচিতি পায়। আর এভাবেই গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত