একনেকে প্রকল্প উঠছে আজ

কৃষকের ধান সংরক্ষণে ৩০টি সাইলো নির্মাণ হচ্ছে

আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ১২:১৫ এএম

দেশব্যাপী কৃষকের ধান সংরক্ষণে সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে। কেননা কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ধান ক্রয় করে ৫ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশিষ্ট এসব সাইলোতে সংরক্ষণ করবে সরকার। সারা দেশে ৩০টি এই বিশাল আকারের সাইলো নির্মাণে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের কাজ শেষ হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ধান শুকানো, সংরক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ আধুনিক ধানের সাইলো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির অভিযোজন বলে মনে করা হচ্ছে। এসব সাইলোতে কীটনাশকবিহীন মজুদ ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ থেকে ৩ বছর শস্যের পুষ্টিমান বজায় রাখা, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মজুদ শস্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাদ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

এসব সাইলো কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, টাঙ্গাইল সদর, ফরিদপুর সদর, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, জামালপুরের মেলান্দহ, শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, নোয়াখালী সদর, কুমিল্লা সদর, দিনাজপুর সদর, বিরল, ঠাকুরগাঁও সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, লালমনিরহাটের হাতিবান্দা, নওগাঁর শিবপুর, রানীনগর, পাবনার ঈশ্বরদী, বগুড়ার শেরপুর, নন্দীগ্রামে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, সিলেটের কানাইঘাট, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, নড়াইল সদর, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া, ভোলার চরফ্যাশন প্রকল্প এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০টি ধানের সাইলো নির্মাণ করা হবে। সাইলোগুলো নির্মাণ হলে আগামী ৩ বছরের মধ্যে ১.৫০ লাখ মেট্রিক টন ধান সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এসব সাইলো নির্মাণ করা হলে সারা বছর কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষক সহজেই সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে উৎসাহিত হবে এবং উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাবে।

প্রকল্পের আওতায় ধান ঝাড়াই, বাছাই, শুকানো, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ প্রতিটি ৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার ৩০টি ধানের সাইলো নির্মাণ করা হবে । সাইলোতে ট্রাক ও বাল্ক ওজন যন্ত্র, কনভেয়িং, বাকেট এলিভেটর সিস্টেম সংযোজন থাকবে। সাইলোর সিভিল ফাউন্ডেশন, মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন স্থাপন, ৩০টি কেন্দ্রে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সাইলো নির্মাণ করা হলে সারা বছর কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষক সহজেই সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে উৎসাহিত হবে। উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাবে । কীটনাশকবিহীন মজুদ ব্যবস্থার মাধ্যমে ২-৩ বছর শস্যের পুষ্টিমান বজায় রেখে খাদ্য মজুদ ব্যবস্থা দৃঢ় করা সম্ভব হবে। এ বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থান করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মো, মতিউর রহমান বলেন, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য পাবে। এছাড়াও যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে খাদ্য নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে। গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পটি মঙ্গলবার (আজ) একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত