রোগ প্রতিরোধে মুখের সুস্থতা

আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ১২:২৮ এএম

আমাদের দেহে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস আক্রমণ করলে রক্তবাহিকার মাধ্যমে সেগুলো শরীরের নিজস্ব শ্বেতকণিকা, অ্যান্টিবডিসহ অন্যান্য উপাদান তাদের ধ্বংস করতে দ্রুত আক্রান্ত স্থানে ছুটে আসে। ফলাফল হিসেবে সেই স্থানে প্রদাহ হয়, ফুলে যায় বা লাল হয়ে ওঠে। যদি ক্ষতিকারক জীবাণু অতিরিক্ত শক্তিশালী হয় বা প্রতিরোধকারী কোষ দুর্বল হয়ে যায় তবে বিপত্তি ঘটে। নানা জটিলতা থেকে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। সাধারণত শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমের মাধ্যমেই অধিকাংশ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গবেষণা বলছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করার নানা কারণের মধ্যে মুখের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ অন্যতম।

কীভাবে

শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধক কোষগুলো মাড়ি বা যেখানে রক্ত সরবরাহ আছে সেখানে লড়াইয়ের মাধ্যমে মাড়িতে বা আক্রান্ত স্থানে প্রদাহের সৃষ্টি করে। ফলে মাড়ি ফুলে যায়, রক্ত পড়ে, বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি করে, দাঁতে গর্ত বা ক্যারিজ তৈরি হয়। মুখের রোগ থেকে সংক্রামক রক্তবাহিকায় মিশে রক্তের স্বাভাবিক কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন ফুসফুস, হার্ট, হাড়, মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সব মিলিয়ে শরীরের নির্ধারিত রোগ প্রতিরোধক কোষ এগুলোকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় নতুন করে কিছু আক্রান্ত হলে, তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত শক্তি নিয়ে যুদ্ধ করতে পারে না। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি মাড়ির রোগ ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিনের কার্যকারিতা হ্রাস করে রক্তে সুগার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলতে পারে। এমন অবস্থায় রোগীকে সুস্থ করতে ওষুধের প্রয়োজন পড়ে। এসব ওষুধ ক্ষতিকর জীবাণুকে ধ্বংসের পাশাপাশি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জটিল করতে পারে।

আবার দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে খাবার যেমন ভালোভাবে চিবানো সম্ভব নয়, তেমনি খাবারের স্বাদ গ্রহণেও ব্যাঘাত ঘটে। ফলে পর্যাপ্ত হজম ও পুষ্টির অভাব থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে স্বাভাবিক রাখার কোনো বিকল্প নেই।

করণীয়

স্বাস্থ্যকর সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস থাকতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন ঠিক রাখা, চিনি বা চিনির তৈরি খাবারের পরিবর্তে ফরমালিনমুক্ত শাকসবজি, ফল-মূল, ডিম, দুধ, টক দই, ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছসহ সুষম খাবার হতে হবে। অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া যাবে না। ধূমপান, জর্দা ও গুল বাদ দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি বা ভিটামিন-সি ও ডি-এর ঘাটতি আছে কি না জেনে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া সকালে নাশতার পর ও রাতে খাবার শেষে দুই মিনিট করে দাঁতের সব পৃষ্ঠ নরম টুথব্রাশ ও ফ্লোরাইযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে পরিষ্কার, রাতে ফ্লস ব্যবহার, মাড়ি মাসাজ, জিহ্বা পরিষ্কার, চিকিৎসকের পরামর্শে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার জরুরি। সমস্যা হলে চিকিৎসকের মাধ্যমে মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত