টোকিও অলিম্পিকের ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য ৪০০ মিটার স্প্রিন্টার জহির রায়হানকে মনোনীত করেছিল অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। এরপর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দেন বিকেএসপি’র সাবেক এই অ্যাথলেট। জেলার কৃতী সন্তান অলিম্পিকে সুযোগ পেয়েছে জেনে শেরপুর জেলাবাসী তাকে সংবর্ধনাও দিয়েছিল। ওদিকে জহিরকে মনোনীত করায় মন ভেঙে গিয়েছিল দ্রুততম মানব মোহাম্মদ ইসমাইল ও মানবী শিরিন আক্তারের। ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন টানা তিনবার দেশের দ্রুততম মানব হওয়া ইসমাইল। তার দাবি ঐতিহ্য মেনে অলিম্পিকের টিকিট পাওয়া কথা তার। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে অতীত পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় অপেক্ষাকৃত তরুণ জহির রায়হানকে বেছে নিয়েছিল ফেডারেশন। সংবাদ মাধ্যমে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ঢালাও বক্তব্য দেওয়া ইসমাইল বিওএ’র কাছে সিদ্ধান্ত বদলের আবেদন জানান। বিওএ বিষয়টি পুরোপুরি আমলে না নিলেও জহিরের বর্তমান অবস্থান জানতে চিঠি দিয়েছে ফেডারেশনকে।
নাম প্রকাশে বিওএ’র এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জহির এসএ গেমসে দৌড় শেষ করতে পারেনি। তাছাড়া করোনার কারণে বাংলাদেশ গেমসও খেলেনি। এমন একজনকে অলিম্পিকের জন্য কেন মনোনীত করা হলো ফেডারেশনের কাছে তা চেয়ে মে’র শেষ সপ্তাহে চিঠি দিই। ওর পারফরম্যান্স জানতে একটা সেট টাইমিংও ঠিক করে দিয়েছি। তাছাড়া কভিড পরবর্তী তার স্বাস্থ্যের অবস্থা জানতে চিকিৎসকের বক্তব্যও চেয়েছি। ফেডারেশনকে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে (১০ জুন শেষ হবে)। জহিরের বর্তমান অবস্থান জেনে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ বিওএ’র এই অবস্থানে তবে কি ইসমাইলের সামনে খুলে যাচ্ছে সম্ভাবনার দুয়ার? এমন প্রশ্নে বিওএ’র কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসমাইল দাবি করতেই পারে। তবে সে ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে যেভাবে দাবিটি জানিয়েছে, সেটা মোটেই সমীচীন মনে হয়নি। সে বিওএ’র কাছে আবেদন করার আগে অনেক সংবাদ মাধ্যমে ফেডারেশনের সমালোচনা করেছে। এখন যদি তাকে অলিম্পিকে সুযোগ দেওয়া হয়, তবে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে গিয়ে সুযোগ পাওয়ার একটা নেতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হবে।’
