অন্যের সাজা খাটা চট্টগ্রামের মিনুকে মুক্তির নির্দেশ

আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ০২:১৫ এএম

চট্টগ্রামে হত্যামামলায় যাবজ্জীবন সাজার রায়ের পর আসামি কুলসুমা আক্তার কুলসুমীর হয়ে প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে সাজাভোগ করা মিনু আক্তারকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে আসল আসামি কুলসুমীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশসহ নিরপরাধ মিনুর জেল খাটার ঘটনায় তিন আইনজীবীকে তলব করেছে হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

তলবের আদেশ পাওয়া তিন আইনজীবী হলেন চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এ নাসের, আইনজীবী নুরুল আনোয়ার ও বিবেকানন্দ চৌধুরী।

হাইকোর্টে মিনুর পক্ষে ভার্চুয়ালি শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে জানান, তলব করা তিন আইনজীবীকে দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ২৮ জুন তাদের সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে গত ২৪ মার্চ মিনুর বিষয়ে সব নথিসহ বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আসামির করা আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকায় মিনুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। আলোচিত এ ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী শিশির মনির।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় মোবাইল ফোন নিয়ে বিবাদের জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই খুন হন পোশাক কারখানার কর্মী কোহিনুর বেগম। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুমী। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এক রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়। এরপর তিন সন্তানের ভরণপোষণের আশ্বাস পেয়ে কুলসুমীর পরিবর্তে বিধবা মিনু ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমী সেজে চট্টগ্রাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। মিনুর স্বামী মোহাম্মদ বাবুল ঠেলাগাড়ি চালাতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান ইয়াছিন (১২) ও গোলাম হোসেনকে (৭) নিয়ে ভাসমান বস্তিতে থাকতেন। মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৫) স্থানীয় এক ব্যক্তি লালন-পালন করছেন।

অন্যের হয়ে কারাভোগের বিষয়টি গত ১৮ মার্চ জানতে পারে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্র্তৃপক্ষ। এরপর গত ২১ মার্চ বিষয়টি রায় প্রদানকারী বিচারিক আদালতের নজরে আনা হলে আদালতের নির্দেশে ২২ মার্চ কারাগার থেকে মিনুকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মিনু আদালতকে বিস্তারিত জানান। এরপর ২৩ মার্চ এক আদেশে মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেয় চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট আদালত।

এদিকে বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে করা আপিলটি বিচারাধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত