ভুলগুলো ঘুরেফিরে আসছে জামালদের ভাবনায়

আপডেট : ০৯ জুন ২০২১, ০১:২২ এএম

ভারতকে ৭৮ মিনিট আটকে রাখার পর সোমবার ৩৬ বছর বয়সী সুনীল ছেত্রীর জোড়া গোলে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ যৌথ বাছাইয়ের আগের ম্যাচেই আফগানিস্তানকে রুখে দিয়ে যে আত্মবিশ্বাস কুড়িয়েছিলেন জামাল ভুঁইয়ারা, ভারতের কাছে হারে সেটা ফের তলানিতে। সেই ম্যাচের ভুলগুলোই ঘুরেফিরে আসছে ভাবনায়। কেন এমনটা হলো, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেই তারা ১৫ জুন শেষ ম্যাচে মোকাবিলা করবে ওমানের সঙ্গে।

৭ ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশের গ্রুপের তলানি থেকে বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্ব শেষ করা অনেকটাই নিশ্চিত। ওমানকে হারানোর মতো কোনো অঘটন ঘটালে চতুর্থ স্থানে উঠে আসার একটা সুযোগ তৈরি হবে। তবে সেক্ষেত্রে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আফগানিস্তানকে তাদের শেষ ম্যাচে হারতে হবে বড় ব্যবধানে। ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ওমানকে হারানোর দুঃসাহস দেখানোর অবস্থায় নেই বাংলাদেশের। তারা আপাতত ব্যস্ত আগের রাতের ভুলের ভাবনায়।

জামাল, তারিক কাজীদের কথায় স্পষ্ট ভারতের বিপক্ষে ভুল ছিল অনেক। ৭৮ মিনিট আটকে রাখার কৃতিত্ব দাবি না করে তারা বারবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো, ভুল পাসে ভারতকে আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ দেওয়া, শেষ দিকে গোলের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেদের রক্ষণ অরক্ষিত করে ছেত্রীকে গোলের জায়গা করে দেওয়ার মতো ভুলগুলো তুলে ধরছেন। অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলাম কিন্তু ভারতের বিপক্ষে পারিনি। কেন আমরা পায়ে বল বেশি রাখতে পারিনি, কেন মিস পাস করেছি, সেগুলো নিয়ে আমাদের মধ্যের আলাপ হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে আমার মনে হয় আমাদের এনার্জি কমে গিয়েছিল এবং ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এই ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেই আমাদের ওমানের বিপক্ষে নামতে হবে।’ শিষ্যদের ক্ষণে ক্ষণে বল হারানোটা কোচ জেমি ডে’কেও হতাশ করেছে, ‘প্রথম ৮০ (আসলে ৭৮ মিনিট) আমাদের রক্ষণ দেখে মনেই হয়নি এটা কেউ ভাঙতে পারবে। আসলে দু’দলের ফুটবলারদের পার্থক্য বোঝা গেছে যখন তাদের পায়ে বল গেছে।’ গোটা ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য দু’টি হাফ চান্স পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি আগের ম্যাচে অভিষিক্ত তারিক কাজী। অথচ ডিফেন্সের মুহূর্তের অসতর্কতায় একটি হাফ চান্সকেই গোলে পরিণত করে নিজের অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন ভারত অধিনায়ক ছেত্রী। জেমি বলেন, ‘আপনি যখন ছেত্রীর মতো স্ট্রাইকারকে সুযোগ দেবেন, সে কাজে লাগাবেই। ও দু’টি সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে।’ জেমি প্রস্তুতির ঘাটতির কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন ম্যাচ শেষে, ‘আমাদের ছেলেরা ভালো খেলেছে। তবে যে প্রস্তুতি নিয়ে খেলেছে সেটা মোটেই যথেষ্ট ছিল না। আফগানরা যে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল, তারা দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল, সে রকম একটা প্রস্তুতিই আমি চেয়েছিলাম। খেলোয়াড়দের মানের পার্থক্য ধরা পড়েছে দুই ম্যাচে। আমাদের আরও ভালো খেলোয়াড় হয়তো ছিল যারা এখন দলে নেই। তবে কাতারের প্রস্তুতিটা আরও ভালো হতে পারত। যাই হোক এখন আমাদের সামনের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে। ভুল শুধরে ওমানের মোকাবিলা করতে হবে, যদিও ম্যাচটা হবে আরও কঠিন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত