সামনের মাসে আদালতে ‘স্বামী’র মুখোমুখি হবেন নুসরাত জাহান। নিখিল জৈনের করা বিচ্ছেদের মামলার শুনানি হবে তখন।
তবে এ ঘটনার জটিল দিক হলো, দুজনের আইনি বিয়ে হয়নি। নিখিল মামলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘যে দিন জানলাম, ফুসরত আমার সঙ্গে থাকতে চায় না, অন্য কারো সঙ্গে থাকতে চায়, সে দিনই দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছি আমি। যেহেতু ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন হয়নি তাই অ্যানালমেন্টের মাধ্যমে আলাদা হবো।’’
লম্বা সময় বিচ্ছেদ নিয়ে চুপ থাকার পর এক বিবৃতিতে নুসরাত বলেন, “আমি আর নিখিল লিভ ইন রিলেশনে ছিলাম। আইনের চোখে এটা বিয়েই নয়। ফলে বিচ্ছেদের প্রশ্নই ওঠে না।” এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য বুঝিয়ে দিলেন, আদালতে গিয়ে আলাদা করে বৈবাহিক সম্পর্ক ছেদ করার নিয়মপালনের প্রয়োজন অনুভব করছেন না তিনি।
এ দিকে অনেক দিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, নিখিলের টাকায় চলছিল নুসরাতের পরিবারের অনেক খরচ। এমনকি আলাদা থাকলেও নিখিলের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন নায়িকা। এত দিন একতরফা অভিযোগ শোনা গেলেও নুসরাত উসকে দিলেন কিছু প্রশ্ন। জানালেন, তার টাকা ব্যবহার করেছেন নিখিল। যা দেখে মনে পারে, বিচ্ছেদের পেছনে টাকা-পয়সারও যোগ আছে। বিশেষ করে, বিয়ে অস্বীকার করে নুসরাত একপ্রকার খোরপোষ অস্বীকার করছেন।
এর আগে সংবাদমাধ্যমকে নিখিল জানিয়েছিলেন, নুসরাতের বোন নুজহাতের পড়াশোনার খরচ অনেক সময়ই তাকে বহন করতে হয়েছে। এমনকি নুসরাতের পরিবারকে নিজের পরিবার মনে করে অনেক সাহায্য করেছেন নিখিল। এর পাশাপাশি তিনি বলেছিলেন, ‘‘নুসরাত বহু দিন ধরে আমার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছে।’’
এই বক্তব্যকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়ে নুসরাত জানিয়েছেন, “আমি বরাবর আমার বোনের পড়াশোনার এবং পরিবারের সমস্ত খরচ একা হাতে বহন করেছি। যে ব্যক্তির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই নেই, কেনই বা তার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে যাব আমি? অভিযোগ তুললে প্রমাণ দিতে হবে।”
আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গে নুসরাত আরও জানান, তার পারিবারিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিখিলের পরামর্শে তিনি নিখিলের দায়িত্বেই রেখেছিলেন। তার পরিবারের কেউই জানতেন না, নিখিল সেই অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে কী করছেন। ব্যাংক তাদের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কোরো নির্দেশ দিলে, সে তথ্য তাদের কাছে পৌঁছোত না।
নুসরাত জানান, অনুমতি ছাড়াই তার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে রাখা টাকাপয়সা বেআইনি ভাবে ব্যবহার করতেন নিখিল। এই বিষয়ে ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তার টাকা অপব্যবহারের সমস্ত প্রমাণ খুব তাড়াতাড়ি সামনে আনবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
নুসরাত প্রশ্ন তুলেছেন, নিজেকে ‘ধনী’ বলে জাহির করা ব্যক্তি কেন মধ্য রাতে নুসরাতের অ্যাকাউন্ট থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলে?
কারো নাম না করে বললেন, “যে মানুষ দাবি করছেন ‘ধনী’ বলে আমি তাকে ব্যবহার করেছি, আমাদের বিচ্ছেদের পরেও তাকে কেন লুকিয়ে আমার টাকা ব্যবহার করতে হয়?”
নুসরাত যে এই বিষয়ে সরাসরি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবেন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিবৃতিতে।
নুসরাতের বিবৃতি থেকে জানা যায়, তার সব গয়নাগাটি, ব্যক্তিগত সম্পত্তি এখনও ‘তাদের’ কাছে আছে। নাম না করেই নিখিল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন তিনি। নুসরাতকে বাবা-মা, বন্ধুবান্ধব যা যা উপহার দিয়েছিলেন, সেগুলো নিজের কাছে নিয়ে আসতে পারেননি এখনো।
নিখিলের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছিলেন, বেশ অনেক দিন আগে নুসরাত গোয়ায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। নিখিলই বিমানের টিকিট ও রিসোর্ট বুক করে দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে নুসরাত বলেন, “আমি কোথাও বেড়াতে বা পেশাগত কারণে গেলে, তার খরচ নিজেই বহন করি। কেউ একজন দাবি করেছেন, আমার ভ্রমণের খরচ অন্য কেউ দেয়, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
‘ধনী’ বলেই একজন একা মহিলাকে যেমন খুশি বলা যায়, তাকে ছোট করা যায়, এ রকম অধিকার কেউ দেয়নি কাউকে। নুসরাত জানিয়েছেন, তিনি যথেষ্ট পরিশ্রম করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তার কথায়, “এই সাফল্য সম্পূর্ণ আমার নিজের। এই সাফল্যের আলোয় আমি কাউকে আলোকিত হতে দেব না।”
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে ‘সাধারণ মানুষ’ বলে দাবি করেছিলেন নিখিল। সেই সূত্র টেনে এনে নুসরাত বললেন, তাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপমান করে যে ‘সাধারণ মানুষ’ নিজে ‘নায়ক’ হয়ে উঠতে চাইছে, তাকে যেন সংবাদমাধ্যম আর গুরুত্ব না দেয়। তবে নুসরাতের বিবৃতি নিয়ে সংবাদমাধ্যম নয়, আদালতেই উত্তর দেবেন বলে জানান নিখিল।
