করোনা মহামারীর মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য গঠিত ৩ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ২৫ শতাংশ নারীদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত এক নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, এই তহবিলের ২৫ শতাংশ নারীদের ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে হবে।
গত বছরের ২০ এপ্রিল ওই তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তহবিলের ঋণ বিতরণে তেমন সাড়া মেলেনি। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করতে হয় বলে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার পড়ছে ৯ শতাংশ।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক মাত্র ১ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলোকে এই তহবিল দিচ্ছে। ব্যাংকগুলো আবার এই তহবিল ৩.৫ শতাংশ সুদে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ৫.৫ শতাংশ সুদ যোগ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করছে।
তবে এই তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের জন্য প্রথমে কোনো কোটা না রাখলেও তহবিল গঠনের এক বছর পর তহবিলের এক-চতুর্থাংশ নারীদের জন্য বরাদ্দের নির্দেশনা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে পর্যন্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের জন্য গঠিত ৩ হাজার কোটি টাকার এই তহবিলের ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী ৩ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগ থেকে পরিচালিত এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে এ তহবিল গঠন করা হয়। তিন বছরমেয়াদি এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সনদ পাওয়া ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো।
করোনা মহামারীর প্রভাব মোকাবিলায় গত বছরের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এমন আরও বেশ কয়েকটি তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব তহবিলের মোট পরিমাণ ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে নয়টি তহবিলের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি সম্পৃক্ত। তবে ১২টি তহবিল বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার আকার প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার তহবিল ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার মোট প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ।
