দালালদের দৌরাত্ম্য ঢাকা মেডিকেলে, রোগী ভোগান্তি

আপডেট : ১১ জুন ২০২১, ০১:৩৫ এএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বাগিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিচ্ছে একাধিক ‘দালাল’ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, ঢামেক হাসপাতালের স্টাফদেরই প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে রোগী বাগানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। অবশেষে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চক্রটির দৌরাত্ম্য থামাতে ঢামেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‌্যাব। অভিযানে ‘দালাল’ চক্রের ২৩ সদস্যকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার কথা জানায় র‌্যাব। অভিযানে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফকে আটক করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের অনুরোধে পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে র‌্যাবের অভিযানের পর ‘দালাল’ চক্রের ৫ নারী সদস্যকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুরে আকস্মিকভাবেই অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় অনেক দালাল আত্মগোপনে চলে যায়। এরপরও ৩০ জনকে আটক করে র‌্যাব। এদের মধ্যে ৬ জন হাসপাতালের স্টাফ ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া একজন একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হওয়ায় তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

র‌্যাবের অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢামেক দেশের সবচেয়ে বড় একটি হাসপাতাল। সারা দেশের লোকজন এখানে এসে একটি সুন্দর সিস্টেমের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ করে। কিন্তু এই দালালরা তাদের এই সুন্দর চিকিৎসা সেবা নিতে বাধা সৃষ্টি করে। দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীরা এই হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মচারীদের দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ও ঢামেক হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে কিছু ভুক্তভোগী ছিল তারাও আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। যারা সেবা নিতে আসে দালালরা তাদের ব্রেইন ওয়াশ করে বিভিন্ন নামি-বেনামি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ওইসব ক্লিনিকে কম দামে ভালো সেবা দেবে বলে আশ্বস্ত করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেখানে তারা ভালো কোনো চিকিৎসা পান না। এই সকল অভিযোগেরও আমরা সত্যতা পেয়েছি। সেসব প্রাইভেট হাসপাতালেও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’ সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে হাসপাতালের কোনো স্টাফ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুএকজন স্টাফকেও প্রথমে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের আইডি কার্ড দেখে ও হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের সত্যতা যাচাইয়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়।’

শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুন অর রশিদ জানান, আটক হওয়া ওই ৫ নারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দালাল নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি কর্মচারী ও স্ব-কার্ডধারী ছাড়া কোনো ব্যক্তি হাসপাতালে অবস্থান করতে পারবেন না। হাসপাতালটি দালালমুক্ত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত