বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য (ভিসি) নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ মধ্যরাতে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একটি বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়েছেন। এ নিয়ে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ভিসির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না কলিমউল্লাহর। এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে, আবার কখনো প্রতিদিন ২২ ঘণ্টা কাজ করার দাবি, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, একাই ২৬টি কোর্সের দায়িত্ব নেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
মধ্যরাতের ওই ক্লাসে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১২তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘পলিটিক্যাল থটস’ কোর্সের দায়িত্ব নিয়েছিলেন কলিমউল্লাহ। বুধবার রাত ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে ক্লাস শুরু করে মাত্র ২৫ মিনিটে অর্থাৎ ৩টা ৫০ মিনিটে ক্লাস শেষ করেন তিনি। অনলাইনের এই ক্লাসে ৬০ জনের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১২ জন যুক্ত ছিলেন।
গভীর রাতে মাত্র ২৫ মিনিটের জন্য ভিসি কলিমউল্লাহর ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক পোস্ট দিচ্ছেন বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনেকেই মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
বেরোবি স্টুডেন্ট রাইটস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা করোনাকালে বারবার অনলাইন ক্লাস চেয়েছি, পাইনি। এখন এ সময়ে এসে অনেকেই সশরীরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিলেও আমাদের এখানে সবেমাত্র অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। একজন উপাচার্য মেয়াদ শেষের দিকে এসে রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে আবার বেরোবিকে বিতর্কিত করলেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সব সময় সেশনজট নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করি, আবার সেশনজট কমানোর লক্ষ্যে কাজ করলে সমালোচনা করি! এই করোনাকালে সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় করতে হলে রাত-দিন চিন্তা করা যাবে না।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রোল মডেল’ হিসেবে নিয়ে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করতে চান তিনি। আগামী ১৩ জুন তার শেষ কর্মদিবস।
