বোস্টন বাতিঘরের রক্ষক স্যালি স্নোম্যান

আপডেট : ১১ জুন ২০২১, ১১:৫০ পিএম

১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকার বোস্টন বাতিঘর দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন স্যালি স্নোম্যান। তার আগে কয়েকজন নারী কিপার বা রক্ষক হিসেবে লাইটহাউজে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের তথ্য সেভাবে পাওয়া যায় না। স্যালির কিপার জীবন নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

বোস্টন লাইটের নারী কিপার

ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন উপকূলে লিটল ব্রিউসটার আইল্যান্ডের লাইটহাউজটি বোস্টন লাইট নামে পরিচিত। ১৭১৬ সালে এখানে প্রথমে একটি লাইটহাউজটি স্থাপিত হয়। এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বাতিঘর। এখনকার লাইটহাউজটি স্থাপন করা হয় ১৭৮৩ সালে। শুধু নিউ জার্সির স্যান্ডি হুক লাইট হাউসটি এর চেয়ে প্রাচীন। এখনও এটি সক্রিয় আর কোস্টগার্ড পরিচালনা করে এটি। ১৯৯৮ সালে লাইটহাউজটি স্বয়ংক্রিয় করা হলেও এখনও এটি দেখাশোনা করার জন্য এখনো কিপার আছেন। তার দায়িত্ব ঘুরতে যাওয়া লোকদের ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করা। ১৯৬৪ সালে ন্যাশনাল হিস্টোরিক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে এই লাইটহাউজটি মনোনীত হয়েছিল। লাইটহাউজ দেখাশোনা করার জন্য একজন লাইটকিপার নিয়োগ দেওয়া হয়। লাইটহাউজ দেখে রাখা, সময়মতো আলো জ্বালানো, লেন্স পরিষ্কার করা, ঘড়ির যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করা তার মূল কাজ। লাইটহাউজে সব সময় আলো জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্ব পান বলে কিপারকে ‘আলোকবর্তিকা’ও বলা হয়।

১৯৮৯ সালে বোস্টন লাইটকে শেষ লাইটহাউজ হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমেরিকান কোস্টগার্ড। পরে অবশ্য কংগ্রেস, সিনেটর টেড কেনেডির তাগিদে বোস্টন লাইটকে কোস্টগার্ডের মাধ্যমে পরিচালনার আদেশ দেওয়া হয়। ২০০৩ সালে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য লোক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কোস্টগার্ড। পুরুষদের নিয়োগ দেওয়ার গতানুগতিক নিয়মের বাইরে গিয়ে স্যালি স্নোম্যান নামে একজন নারী নিয়োগ পান নতুন কিপার হিসেবে। ১৯৪১ সালের পর তিনিই ছিলেন লাইটহাউজের প্রথম সিভিলিয়ান কিপার।

স্যালি স্নোম্যান

বোস্টনের দক্ষিণ উপকূলের ওয়েমাউথের একটি নৌকা পরিবারে (নৌকায় জীবন পার করেন যারা) জন্মগ্রহণ করেন স্যালি স্নোম্যান। বাবা-মা তাকে প্রায়ই উপকূলের দ্বীপগুলোতে বেড়াতে নিয়ে যেতেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে বোস্টন লাইট ঘুরে এসেছিলেন স্যালি। জায়গাটি তার ভীষণ ভালো লেগে যায়। কিন্তু কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি সেখানে থাকার সুযোগ তার জীবনে আসবে। কলেজে গ্র্যাজুয়েশন শেষে স্যালির কাছে নৌকা কেনার মতো অর্থ ছিল না। তখন তিনি কোস্টগার্ড অক্সিলিয়ারিতে যোগ দেন। পিএইচডির পাশাপাশি প্রতিবন্ধী বিশেষজ্ঞ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

অক্সিলিয়ারি ট্রেনিংয়ে জে থমসন নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয় স্যালির। থমসন কোস্টগার্ড অক্সিলিয়ারির একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। যখন তারা লিটল ব্রিউসটার আইল্যান্ডের বোস্টন লাইটে ছিলেন তখন থেকেই সেই এলাকায় বিয়ে করতে চাইতেন স্যালি। সে সময় থমসন স্যালিকে বলেছিলেন তুমি যখন চাইবে তখনই আমরা বিয়ে করব। ১৯৯৪ সালের ৮ অক্টোবর থমসন ও স্যালি এক বন্ধুর ‘ট্রু লাভ’ নামের সেইলবোটে বিয়ে করেন। ছোট্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২২ জন অতিথি। সঙ্গে আরও দুটো পাওয়ার বোট ছিল। একসঙ্গে পথচলা শুরু করে আজও একইভাবে সঙ্গে রয়েছেন দুজন, দেখাশোনা করছেন লাইটহাউজের।

পাঁচ বছর গবেষণা শেষে ১৯৯৯ সালে ‘বোস্টন লাইট : এ হিস্টোরিকাল পার্সপেক্টিভ’ নামে তিনশো পৃষ্ঠার একটি প্রকাশ করেন স্যালি ও থমসন। আমেরিকার এই লাইট স্টেশন নিয়ে বিস্তৃতভাবে লেখা আছে এ বইয়ে। বোস্টন লাইট নিয়ে ‘স্যামি, দ্য বোস্টন লাইটহাউজ ডগ’ নামে ছোটদের একটি বইও লিখেছেন। ২০১৬ সালে দুজনে মিলে বোস্টন লাইট নিয়ে আর্কডিয়া প্রকাশনার মাধ্যমে চমৎকার কয়েকটি ছবি দিয়ে বই প্রকাশ করেছিলেন।

লাইটহাউজের কাজ

বোস্টন লাইটের আলো ব্যবস্থা ঠিক রাখতে কুয়াশা পরিষ্কার করার জন্য ন্যাভিগেশন টিমকে সহায়তা করে আমেরিকান কোস্টগার্ড। বোস্টন লাইটে প্রতি দশ সেকেন্ড পরপর ফ্ল্যাশ জ্বলে ওঠে। এই আলো ঘিরে রয়েছে ফ্রেসনেল লেন্স। এই লেন্সের ভেতর দিয়েই আলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। স্যালি নিয়মিত এই লেন্স পরিষ্কার করেন যেন প্রিজমে কোনো রকমের আঙুলের ছাপ না থাকে।

দীর্ঘ সময় ধরে লাইটহাউজের আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চালিত হতো। ১৮৫৯ সালে ফ্রেসনেল লেন্স স্থাপন করা হয়। মজার বিষয় হচ্ছে, এই লেন্সের পরিষ্কার পদ্ধতি কিছুটা হারিকেনের মতো। হারিকেন পরিষ্কার করার জন্য যেভাবে কাচ খুলে পরিষ্কার করা হয় এই লেন্সও কিছুটা সে রকম। কাজটি কষ্টসাধ্য হলেও স্যালি বেশ আনন্দ নিয়েই এটি করেন। ৯ ফুট লম্বা, ৩৩৬টি প্রিজম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লাইটহাউজটি পরিষ্কার করার জন্য বেশ ধৈর্যের প্রয়োজন। হাতে বিশুদ্ধ পানি ও সাদা ভিনেগারের মিশ্রণ ও নরম কাপড় হাতে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় থমসন ও স্যালি মিলে প্রিজমগুলো পরিষ্কার করেন। স্যালি বলেন, ‘এই কাজটি আমার কাছে মেডিটেশনের মতো। এই কাচগুলো ফিনল্যান্ড ও চমৎকার লেন্সগুলো ফিনল্যান্ডের একটি বিচ থেকে নিয়ে আসা। পরিষ্কার করার সময় আমার মনে হয়, আমি আমার চেয়ে বড় কোনো জিনিসের একটি অংশ। নিজ দেশের বাইরের দামি জিনিস হাত দিয়ে স্পর্শ করছি। আমার কাছে এই অনুভূতিটাও অনেক ভালো লাগার।’

তার সবচেয়ে পছন্দের কাজ গিয়ার রুম পরিষ্কার করা। ‘যখন সূর্য নির্দিষ্ট একটি কোণে থাকে, তখন কাচে তার আলো পড়ে। ছায়া যত নিচের দিকে নামে তত কাচটি দেখে রংধনুর মতো মনে হয়। আমি ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি যতক্ষণ রংধনুর আলো আমাকে অতিক্রম করে চলে না যায়। এই দৃশ্যকে আমি রংধনুবর্ষণ বলি।’

স্যালির অন্যতম দায়িত্ব বোস্টন লাইটহাউজে কেউ ঘুরতে গেলে তাদের সমাদর করা। কর্মস্থলের পোশাক পরে বাথ হাউজে দাঁড়িয়ে সবার সঙ্গে তিনি কথা বলেন। কোস্টগার্ড অক্সিলিয়ারি’স ওয়াচসেন্ডারের প্রোগ্রামও তিনি দেখেন। দ্বীপে দল বেঁধে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও ভ্রমণপ্রিয়রা ঘুরতে আসেন। তাদের সহায়তা করার জন্য সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকেন স্যালি। এ ছাড়া লন পরিষ্কার রাখা, জায়গাটিকে সুন্দর রাখতে সব ধরনের কাজ করা, পেপারওয়ার্ক থাকলে সেগুলোও করেন তিনি। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে তিনি টাওয়ারের ঠিক পাশেই একটি বাড়িতে থাকেন। বাকি সময়ে সবকিছু ঠিক আছে কি না পর্যবেক্ষণ করতে প্রতি মাসে একবার করে দ্বীপ ঘুরে আসেন। এক কথায় তিনি একজন ক্লিনার, কিপার, ইতিহাসবিদ, সাইট সুপারভাইজার, সেফটি অফিসার এবং লাইটহাউজের সবচেয়ে বড় ভক্ত।

৬৯ বছর বয়সী স্যালি আর কত দিন এই কাচের রংধনুর আনন্দ নিতে পারবেন সেটি বলা শক্ত। অনধিকার প্রবেশ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা, ঐতিহাসিক দলিলপত্র একত্র করার জন্য আমেরিকান কোস্টগার্ডকে সহায়তা করছেন স্যালি। খুব বেশি হলে এই প্রক্রিয়া হয়তো আর পাঁচ বছর চলবে। এরপর হয়তো তাকে ছেড়ে যেতে হবে তার প্রিয় এই জায়গা। অবশ্য পরের সময় নিয়ে ভাবছেন না স্যালি। বর্তমানটাই উপভোগ করছেন মন ভরে। নিজ কাজের পুরস্কারস্বরূপ ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল ‘কিপার অব দ্য লাইট’ পুরস্কার পান স্যালি।

লাইটহাউজের নারী কর্মীরা

১৭১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বোস্টন লাইটের দেখাশোনা করার জন্য ৭০ জন কিপার দায়িত্বে ছিলেন। আমেরিকার তিন শতকের ইতিহাসে স্যালি যে অন্যদের থেকে শুধু আলাদা তা-ই নন, তার আগে কতজন নারী এই দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তা বলা মুশকিল। লাইটহাউজ নিয়ে ডজনখানেক বই লিখেছেন এলিনর ডিওয়্যার। তিনি একজন ইতিহাসবিদও। তিনি বলেন, ‘পুরুষদের সঙ্গে আগে থেকেই লাইটহাউজে থাকতেন নারীরা। তাদের কাজকে পদমর্যাদা দেওয়া হতো না অবশ্য। এজন্য তারা কোনো অর্থও পেতেন না। আগে ধারণা করা হতো, নারীদের অর্থ দেওয়া হোক অথবা না হোক, তারা এমনিতেই সাহায্য করবে। যদি অর্থের হিসাব ছাড়া বলি, তাহলে অন্তত হাজারজন নারীর কথা বলা যায়। বিষয়টি যদিও মোটেও গর্ব করার মতো নয়। এসব নারীর অনেকেই ইতিহাসে হারিয়ে গেছেন। যেটুকু রেকর্ড ছিল ১৯২০ সালে ন্যাশনাল আর্কাইভে আগুন লেগে তাও পুড়ে যায়। শুরুর দিকের তো কোনো হিসাবই নেই। পুরুষদের কাজে সাহায্য করার জন্য নারীদের ইতিহাসে এই অধ্যায়টি খুব চমৎকার ছিল। যদিও একে মুক্তির স্বাদ নেওয়া বলা যায় না।’

১৯৯৩ সালে ‘উইম্যান হু কেপ্ট দ্য লাইটস’ বইতে ম্যারি ও ক্যানডেক ক্লিফর্ড লিখেছিলেন, ‘১৮ ও ১৯ শতকে নারী ও পুরুষ লাইটহাউজ কিপারদের ভারী কাজ করতে হতো, সেই সঙ্গে অনেক ধরনের বিপদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।’ দিনের বেলা বাড়ির কাজ করে, লাইটহাউজের আলো জ্বালিয়ে রেখেও তাদের নানা ধরনের কাজ করতে হতো। নিজেদের জীবন বাজি রেখে অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসতেন তারা।

ইতিহাস ঘাঁটলে কয়েকজন নারী কিপারের ঘটনা জানা যায়। তারা তাদের কাজ দিয়ে রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রোড আইল্যান্ডের ইডা লুইস। ৫৪ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দেশের জাতীয় সম্পদ। ১৮৬৯ সালে ‘হারপার্স উইকলি’ ম্যাগাজিনে তাকে নিয়ে ‘ইডা লুইস, দ্য হিরোইন অব নিউপোর্ট’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। কর্মজীবনে তিনি ১৮ জনেরও বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। সে শতকে তিনি ছিলেন দেশের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া লাইটহাউজ কিপার।

দু-একজনের নাম উজ্জ্বলভাবে জানা গেলেও বেশির ভাগ নারী কিপারের নাম হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। ১৮ ও ১৯ শতকে স্বামী, বাবা অথবা পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে নারীরা লাইটহাউজ কিপারের চাকরি পেতেন। ডিওয়্যার বলেন, ‘বিধবাদের জন্য এই চাকরি সবচেয়ে সহজ বলে মানা হতো। কারণ তারা স্বামীর সঙ্গে আগে থেকেই লাইটহাউজের সব কাজ জানতেন। কাজ কিন্তু একই রকম থাকত। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার ছিল, নারী হওয়ার কারণে একই চাকরিতে তাদের বেতন আগের চেয়ে কমিয়ে দেওয়া হতো। ১৮৮০ সালে এ পেশায় নিযুক্তদের জন্য বোতামযুক্ত আলাদা রকমের পোশাক তৈরি করা হয়। সেই পোশাক পরার অনুমতিও তাদের ছিল না। গতানুগতিক নিয়মে তাদের স্কার্টই পরতে হতো। আমি তাই তাদের ‘কিপারস ইন স্কার্টস’ বলি।’

এই পেশায় অদৃশ্য কিছু নিষ্ঠুরতা ছিল। সেসব ঘটনার প্রায় কিছুই বর্তমানে উল্লেখ করা হয় না। পুরুষদের একাকিত্ব নিয়ে ভাবা হলেও নারীদের জন্য যেন কোনো নিয়মই ছিল না। ১৮৭৩ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর ম্যারি রায়ান শিকাগো থেকে এক মাইল দূরে ইন্ডিয়ানার ক্যালুমেট হার্বারের লাইটহাউজে সাত বছর একা কাটিয়েছেন। তার জীবন নিয়ে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। তার লিখে যাওয়া লগবুকটাও (নদীপথে কোনো জাহাজে অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হয়) এক রকম রহস্য। দিন ও তারিখ ছাড়া খুব বেশি তথ্য সেখানে নেই। ১৮৮০ সালে তার জায়গায় যখন নতুন একজন নিয়োগ পান তখন লগবুক খুলে দেখা যায় তাতে লেখা আছে, ‘এপ্রিল ৭,১৮৭৪ : এত নিস্তেজ। জায়গাটি আমাকে মেরে ফেলছে। ভয়ংকরভাবে বাতাস বইছে।’ ‘অক্টোবর ১,১৮৮০ : শিগগিরই আমার কাছ থেকে সব আলো চলে যাবে।’ ‘নভেম্বর ১,১৮৮০ : চারপাশে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার।’

পেশা এক রকম হলেও নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে কর্র্তৃপক্ষের আচরণ ছিল ভিন্নরকম। পুরুষ কিপাররা যদি অবিবাহিত হতো তবে তাদের একাকিত্ব ঘোচাতে যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে করার কথা বলা হতো। নারীদের বেলায় হতো এর উল্টো। অবিবাহিত এমনকি বিধবা নারী চাকরি পেলেও অনেক নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হতো। ১৮৬১ সালে ৩৭ বছর বয়সে মিশিগান সিটিতে হ্যারিয়েট কোলফ্যাক্স যখন নিয়োগ পান, তখন তাকে নিয়ে হৃদয়ভাঙার গল্প বানানো হয়। ১৯০৪ সালে ‘দ্য টেকনিক্যাল ওয়ার্ল্ড’ নামে একটি ম্যাগাজিন কোলফ্যাক্সকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে লেখা হয় কীভাবে কোলফ্যাক্স তার সহকারী ও ছোটবেলার বন্ধু অ্যান হার্টওয়েলের সঙ্গে থাকেন। প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেই যে তারা দুজন এখানে এসেছেন সেটি সহজে মানতে যেন কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল ম্যাগাজিন থকে আসা রিপোর্টারের। দুই বন্ধুর কেউ বিয়ে করেননি জেনে যেন তারা কিছুটা ধাতস্থ হলেন। ধারণা জন্মাল হৃদয়ঘটিত কোনো বিষয় হয়তো এখানে আছে। এই দুই নারীর বন্ধুত্ব ছিল প্রায় চার দশক ধরে। ১৯০৫ সালে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত