গ্রাম থেকে শহরমুখী করোনার সংক্রমণ

আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ০১:২২ এএম

ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বর্ডার লাইনসংলগ্ন জেলার হাসপাতালগুলোকে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমান্তসংলগ্ন অন্তত ২২ জেলায় এখন পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার সর্বোচ্চ ৫৪ থেকে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশের মধ্যে। পঞ্চগড়, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা, নাটোর, খুলনা, ঠাকুরগাঁও, যশোরসহ এসব জেলার হাসপাতালে এখন ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি। প্রতিদিনই আসছে নতুন করোনা রোগী। শয্যাসংকটের কারণে কোথাও কোথাও রোগীদের রাখতে হচ্ছে মেঝেতেও।

এমনকি সংক্রমণ পরিস্থিতি যে হারে বাড়ছে, তাতে সীমান্তবর্তী এসব জেলা থেকে সারা দেশের অসংক্রমিত জেলাগুলোয় তা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেসব জেলায় সংক্রমণ কম, সেখানেও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় এখনো মানুষ ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মানুষ সংক্রমিত এলাকা থেকে অসংক্রমিত এলাকায় যাতায়াত করছে।

সীমান্তবর্তী জেলায় করোনা পরিস্থিতিকে ‘অ্যালার্মিং’ বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন গতকাল শুক্রবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারতের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, সেটা অবশ্যই অ্যালার্মিং। শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়ে যাচ্ছে। এসব জেলায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, মানুষ চলাফেরা করলে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক হবে। এখনো যেসব জেলায় সংক্রমণ কম বা নেই, সেখানেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। কারণ মানুষজন চলাফেলা করছে, কথা শুনছে না।

অনুরূপভাবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংক্রমণ ধীরে ধীরে হলেও বাড়ছে। ঢাকা শহরসহ সব জেলাকেই সতর্ক অবস্থান নিতে হবে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যেন কোনো শিথিলতা না আসে। গ্রাম-শহর বিষয় না, সংক্রমণ যেকোনো জায়গায় ছড়াতে পারে, যদি সংক্রমণ বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থাগুলো দুর্বল থাকে।

গত বছর মার্চে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর সংক্রমণের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে ঢাকার পরিস্থিতিই সবচেয়ে খারাপ ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার সামাজিক বিস্তার বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটায় রাজশাহী ও খুলনার ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে কয়েক সপ্তাহ ধরে।

সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যুও বাড়ছে : গতকালের মৃত্যু নিয়ে এক মাসে এক হাজার মানুষ করোনায় মারা যায়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গেল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৩২ জনের। সংক্রমণের বিস্তার রোধে লকডাউনের মধ্যেই গত ১১ মে দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১২ হাজার পেরিয়েছিল। তার সঙ্গে আরও এক হাজার যুক্ত হতে সময় লাগল এক মাস। মাঝে কিছুদিন দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও জুনের শুরু থেকে তা ৩০ থেকে ৪০-এর ঘরে ঘোরাফেরা করছে।

গত এক দিনে আরও ২ হাজার ৪৫৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯। সরকারি হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরও ২ হাজার ২৮৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯১৬ জন।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আড়াই মাস পর গত বছরের ১০ জুন মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ায়। এরপর ৫ জুলাই ২ হাজার, ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ আগস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বরে ৫ হাজার ছাড়ায় মৃতের সংখ্যা। এরপর কমে আসে দৈনিক মৃত্যু। ৪ নভেম্বর ৬ হাজার, ১২ ডিসেম্বর ৭ হাজারের ঘর ছাড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ৮ হাজার এবং ৩১ মার্চ মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়ায়। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ১৫ দিনেই এক হাজার কভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটে, গত ১৫ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর পরের এক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটাতে আরও কম, মাত্র দশ দিন সময় নেয় করোনাভাইরাস; মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায় ২৫ এপ্রিল। এর ১৬ দিন পর ১১ মে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এক মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার তা ১৩ হাজার ছাড়ায়। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে সময় টানা চার দিন মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০০-এর ওপরে।

২২ জেলায় শনাক্ত হার ৫৪-২০ শতাংশের ঘরে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গতকাল সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে পঞ্চগড় জেলায়। এখানে পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ৫৪ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাতক্ষীরা, শনাক্তের হার ৫৩ শতাংশ। এরপর বাগেরহাটে শনাক্ত হার দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশ। এ ছাড়া নীলফামারীতে পরীক্ষা অনুপাতে রোগী শনাক্তের হার সাড়ে ৩৮, চুয়াডাঙ্গা ও নাটোরে ৩৭ করে, খুলনায় ৩৬, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩৩ দশমিক ৩৭, যশোরে ৩২ দশমিক ৪০, লক্ষ্মীপুরে সাড়ে ২৪, দিনাজপুরে ২৯, নোয়াখালীতে ২৪, গোপালগঞ্জে ২৩, টাঙ্গাইলে সাড়ে ২২, জয়পুরহাটে ২৩, মাদারীপুরে ২১, চাঁদপুরে ২২, নওগাঁয় ২১, শেরপুরে ২০ দশমিক ২৮, লালমনিরহাটে সাড়ে ২০, রাজশাহীতে ২০ ও সিলেটে সাড়ে ২৩ শতাংশ।

এ ছাড়া সীমান্তবর্তী অধিকাংশ জেলায় গড় শনাক্তের হার ১০-১৫ শতাশের মধ্যে।  

এক সপ্তাহে বেশি বেড়েছে রংপুর বিভাগে : সীমান্তবর্তী জেলায় সংক্রমণ বাড়ার কারণে এক সপ্তাহে দেশের আট বিভাগের মধ্যে ৭ বিভাগে সংক্রমণ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রংপুর বিভাগে। ৫ জুন এখানে শনাক্ত হার ছিল ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গতকাল তা দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে। অর্থাৎ এই এক সপ্তাহে এই বিভাগে সংক্রমণ বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। একইভাবে এক সপ্তাহে বরিশালে ৩৮, ময়মনসিংহে ৩১, খুলনায় ২১, চট্টগ্রামে ১৫ দশমিক ৫২ ও সিলেটে ১১ দশমিক ১৩ শতাংশ সংক্রমণ বেড়েছে। এই এক সপ্তাহে সবচেয়ে কম সংক্রমণ বেড়েছে ঢাকা বিভাগে, মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশ, যা ১ শতাংশের কম।

এই এক সপ্তাহে সংক্রমণ কমেছে রাজশাহী বিভাগে। সেখানে গতকাল শনাক্ত হার ছিল ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ৫ জুন ছিল ২৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

সীমান্তবর্তী জেলায় চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, কতগুলো জায়গায় লকডাউন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লকডাউনই তো বড় কথা না। এতে স্থানীয় কিছু জায়গায় হয়তো সংক্রমণ কম থাকে, হাসপাতালগুলোতে স্থান সংকুলান করা যায়; কিন্তু সংক্রমণ তো বন্ধ থাকছে না। চলাচলের কারণে পাশের জেলাগুলোয় সংক্রমণ বাড়ছে। এতে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন হাসপাতালেও চাপ বাড়ে। যদিও এখনো বর্ডার লাইন ছাড়া অন্য হাসপাতালগুলোয় কিছু বেড খালি আছে। কিন্তু সংক্রমণ এভাবে যদি বাড়তে থাকে, তখন তো এসব বেডও ভরে যাবে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হবে। গত এপ্রিলের অবস্থা আসতে পারে।

সে ক্ষেত্রে এখন কী করা যায় জানতে চাইলে এই মুখপাত্র বলেন, কিছু জায়গায় লকডাউন দেওয়া হয়েছে। ওখান থেকে অন্য জেলাগুলোয় যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ করতে হবে। বন্ধ না করলে সংক্রমণ বাড়বে। যারা যেখানে আছে, তাদের সেখানে রেখে দিতে পারলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। যেসব রোগীর অবস্থা খারাপ হবে, তারা চলে আসবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ চলাচল করলে সমস্যা হবে। এটা বন্ধ করতে হবে। তা হলে সমস্যা কমবে। যে জায়গায় সংক্রমণ বেশি, ওই জায়গায় যাতে সংক্রমণ কম থাকে, সে জন্য সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

এ ব্যাপারে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, গ্রাম থেকে গ্রাম, শহর থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় ছড়াতে পারে। এক জেলা থেকে আরেক জেলা, এক লোকালয় থেকে আরেক লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ যে জায়গায় কমে যাচ্ছে, তার পাশের জেলায় আবার বেড়ে যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটু স্থিতিশীল হলো আবার রাজশাহীতে বাড়ল। একইভাবে রাজশাহীতে স্থিতিশীল হলো, নাটোরে বাড়ল। আবার নাটোরে স্থিতিশীল হলো নওগাঁয় বাড়ল।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় সংক্রমণ বাড়ছে। যেখানে ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেখানে কমতে তো দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। যেখানে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেখানে সংক্রমণ স্থিতিশীল থাকছে। কোনো জায়গায় এখনো কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না, সংক্রমণ স্থিতিশীল আছে। শনাক্ত হার একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে। রাজশাহী বিভাগে ২০ শতাংশের নিচে কোনো জেলাই নেই। সবগুলোতেই শনাক্তের হার ২০ শতাংশের বেশি। রংপুর ও খুলনায়ও একই অবস্থা।

যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ জরুরি : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী করা উচিত জানতে চাইলে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, যেখানে সংক্রমণ বেশি, কর্র্তৃপক্ষ মনে করছে সেখানে কমালেই হবে। এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। সংক্রমণ কমাতে হলে পাশের জেলায়ও কমাতে হবে। কারণ লোকজনের যাতায়াত উভয়মুখী। সংক্রমিত এলাকা থেকে অসংক্রমিত এলাকায় যাচ্ছে, আবার অসংক্রমিত এলাকা থেকে সংক্রমিত এলাকায় যাচ্ছে। এই যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। কাজেই সংক্রমিত জেলার পাশের জেলায়ও যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা দরকার। এখন রাজশাহীর ট্রেন বন্ধ করেছে। এটা ভালো পদক্ষেপ। সংক্রমণ কমাতে হলে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ খুবই দরকার।

চিকিৎসার ব্যাপারে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, চিকিৎসার চেয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের প্রতিটি বেডে অক্সিজেন সরবরাহ জরুরি। আইসিইউ রাতারাতি বাড়ানো যাবে না, জনবল তৈরি করা যাবে না। অক্সিজেন হলেই আইসিইউ প্রয়োজনটা কমে যাবে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, অ্যান্টিজেন টেস্ট অনেক বেড়েছে। প্রয়োজনে এই পরীক্ষাটা আরও বাড়ানো যায়। এটা সম্ভব। নির্বাচন বন্ধ হয়েছে, বন্ধই থাকুক। একটা এলাকায় সংক্রমণ কম। নির্বাচন করলে সেখানেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। খুবই জরুরি কিছু না হলে সব ধরনের সমাবেশ, জনসমাগম করতে দেওয়া উচিত নয়। দেশব্যাপী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে আসতে হবে। একটি এলাকায় শুধু ৫ শতাংশের নিচে এলে স্বস্তির কিছু নেই। এখন ঢাকা শহরে শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে। এখন যদি এখানে সব খুলে দেওয়া হয়, তাহলে এখানেও চোখের নিমেষেই শনাক্ত হার অনেক ওপরে  উঠে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত