১ সপ্তাহ আগেই বিয়ে করেছেন রেলমন্ত্রী সুজন

আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ০১:২৬ এএম

বিয়ে করেছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। গত ৫ জুন ঢাকার উত্তরায় দিনাজপুরের মেয়ে আইনজীবী শাম্মী আক্তারের সঙ্গে আকদ হয় মন্ত্রী নুরুল ইসলামের। গত বৃহস্পতিবার থেকে এ বিষয়ে গুঞ্জন শুরু হলে মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, সবকিছুই ঠিকঠাক আছে, শিগগিরই বিয়ে করবেন তিনি। তবে গতকাল জানা গেল বিয়েটা তিনি এক সপ্তাহ আগেই সেরেছেন।

গতকাল শুক্রবার দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র লিয়াকত আলী এবং কনে শাম্মী আক্তারের বড় ভাই মো. জাহিদুল ইসলাম মিলন বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে মন্ত্রীও সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘উত্তরায় আকদ হয়েছে। সেখানে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। কনেকে এখনো উঠিয়ে আনা হয়নি।’ মন্ত্রী জানান, বড় কোনো আয়োজনের চিন্তা আপাতত করছেন না তারা।

শাম্মী দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার নতুন বাজার এলাকার প্রয়াত আবদুর রহিমের মেয়ে। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। পাশাপাশি ঢাকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত। দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে এটি। কনে শাম্মী আক্তারের বসয় ৪২ আর বর নুরুল ইসলামের বয়স ৬৫।

শাম্মীর বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, তারা দুই ভাই, এক বোন। শাম্মী সবার ছোট। এর আগে কুষ্টিয়ায় বোনের বিয়ে হয়েছিল। সেখানকার একটি কন্যাসন্তানও আছে তার। শাম্মী বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় থাকে। বেশ কিছুদিন আগে আইন বিষয়ে পরামর্শ নিতে রেলমন্ত্রীর কাছে যায়। সেখান থেকেই পরিচয়। পরবর্তী সময়ে আলোচনার মাধ্যমে পারিবারিকভাবে ৫ জুন বিয়ে সম্পন্ন হয়। করোনার কারণে কোনো আনুষ্ঠানিকতা হয়নি, সম্পূর্ণ ঘরোয়াভাবে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়েতে আমরা দুই ভাই উপস্থিত ছিলাম।

বিরামপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র লিয়াকত আলী জানান, বিয়ের আলোচনা ঢাকা থেকে শুরু হলেও বিয়ের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) চাকরি করতেন শাম্মী আক্তারের বাবা। তাদের আদি নিবাস ছিল পাবনা জেলায়। পরবর্তী সময়ে বাবার চাকরির সুবাদে প্রায় ৩৫ বছর আগে বিরামপুরে চলে আসেন তারা। তারপর বিরামপুরের নতুন বাজার এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান।

নুরুল ইসলাম ১৯৫৬ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আইন পেশায় জড়িত রেলমন্ত্রী ব্যক্তিজীবনে এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। তিনজনেরই বিয়ে দিয়েছেন। গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে তার স্ত্রী নিলুফার জাহান মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসন থেকে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য এবং পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত