শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলেই হচ্ছে কোপা

আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ০১:৪৮ এএম

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে কোপা আমেরিকা। মহাদেশীয় এই মর্যাদার আসর রবিবার গভীর রাতে শুরু হবে স্বাগতিক ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলার ম্যাচ দিয়ে।

কোপা আমেরিকা আয়োজন করতে পারে ব্রাজিল বৃহস্পতিবার এমন আদেশ দিয়েছে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালত। আর তাতেই কেটে গেছে কালো মেঘ। করোনা অতিমারীর মধ্যেও এখন দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ মেতে উঠতে পারবে ফুটবল আনন্দে। করোনার কারণে এমনিতেই এক বছর পিছিয়ে গিয়েছিল কোপা। কথা ছিল আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া যৌথভাবে আয়োজন করবে আসরটি। পরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আয়োজক হতে অসম্মতি জানায় কলম্বিয়া। কনমেবল এরপর আর্জেন্টিনাকে এককভাবে আয়োজনের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু দেশটিতে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তারাও পিছু হটে। অল্প সময়ের মধ্যে কনমেবল ব্রাজিলকে আয়োজক হওয়ার প্রস্তাব দেয়। ব্রাজিল সরকার আয়োজনে সম্মত হলেও বিরোধী দল ও বেশ কিছু স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা আয়োজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং কোপা ব্রাজিল থেকে সরিয়ে নিতে আদালতের শরণাপন্ন হয়। তাদের দাবি ছিল মহামারীর মধ্যে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ১১ বিচারক এক ভার্চুয়াল শুনানিতে আয়োজনের পক্ষে রায় দেন। তবে রাজ্য সরকার ও মেয়রদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেয় আদালত। কোপা আমেরিকা যেন ‘কোপাভাইরাসে’ রূপ না নেয়, সেদিকে দৃষ্টি দিয়ে বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেয় আদালত।

বিশ্বে করোনাভাইরাসের বিস্তার লাভের পর থেকে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলে। প্রায় ৫ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে মারা গেছে। আগের চেয়ে পরিস্থিতি ভালো হলেও সংক্রমণ থেমে নেই। এ অবস্থায় খোদ ব্রাজিল ফুটবল দলও নিজ দেশে কোপা আয়োজনের পক্ষে ছিল না শুরুতে। তবে পরে তারা খেলতে রাজি হয়। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে নিজ দলের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে চারটি শহরে দর্শকশূন্য মাঠে টুর্নামেন্ট আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।

রবিবার মধ্যরাতে শুরু হয়ে কোপা আমেরিকার পর্দা নামবে ১১ জুলাই। করোনা থেকে মুক্ত রাখতে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে হবে ফুটবলারদের। চলাফেরায় নানা বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টা পরপর দলগুলোর করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

২৮ বছরের খরা ঘুচবে মেসিদের?

১৯১৬ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে সফল দলটির নাম উরুগুয়ে। ১৫ বার শিরোপা জিতেছে বিশ্ব ফুটবলে এক সময়ের পরাশক্তি এই দলটি। এর পরের অবস্থান আর্জেন্টিনার। ফুটবল-ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার দেশটি কোপা জিতেছে ১৪ বার। অথচ আর্জেন্টিনাই কিনা গত প্রায় দশক পায়নি এই শিরোপার স্বাদ! ১৯৯৩ সালে সর্বশেষ দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব পাওয়া থেকে শুরু তাদের অপেক্ষা। এবার কি পারবে দেশটি দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে? নির্ভর করছে লিওনেল মেসির ওপর। গতকাল ঘোষিত ২৮ সদস্যের আর্জেন্টিনা দলটি গড়েই উঠেছে বার্সা তারকাকে কেন্দ্র করে। শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মেসি পাশে পাচ্ছেন সদ্য ক্লাব সতীর্থ হওয়া সার্জিও আগুয়েরোকে। সোমবার মধ্যরাতে ২০১৫ ও ২০১৬ টানা দু’বারের শিরোপাজয়ী চিলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মেসিদের মিশন।

আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালনির স্কোয়াডে ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়থ ও উইঙ্গার লুকাস ওকাম্পোসের না থাকাটা এক বড় চমক। অথচ ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়মিতই এই দুজনে আস্থা রেখে আসছিলেন স্কালনি। মূলত বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে ফয়থকে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ভিয়ারিয়ালের এই স্টপারব্যাকের ভুলে গোল হজম করতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। সেভিয়ার ফরোয়ার্ড ওকাম্পোসের বাদ পড়াটা সম্প্রতি বাছাইয়ের ম্যাচে চিলির সঙ্গে ড্র ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে। আক্রমণভাগে মেসি-আগুয়েরোর সঙ্গে স্কালনি অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ায় আস্থা রেখেছেন। ২৮ বছরের আক্ষেপ ঘোচানোর মিশনে আর্জেন্টিনার বড় পরীক্ষাই দিতে হতে পারে গ্রুপপর্বে। যেখানে চিলি ছাড়াও আছে উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও বলিভিয়া।

অন্য ভাবনা দূরে ঠেলে কোপায় মনোযোগ নেইমারদের

প্রীতি ম্যাচ ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা সাত ম্যাচ জেতা ব্রাজিল শিবিরে বইছে স্বস্তির সুবাতাস। দেশের মাটিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা জয়ের হাতছানি তাদের সামনে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ঘরের মাঠে খেলা সব মিলিয়ে রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট তাদেরই বলা যায়। ১৬ গোলের বিপরীতে তারা গোল খেয়েছে মাত্র ২টি। সেটাও আবার পেরুর বিপক্ষে ৫-২ গোলে জয়ের ম্যাচে। অর্থাৎ বাকি পাঁচ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করতে পারেনি কোনো দল। উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাই দশম কোপা জয়ের মিশন শুরু করার কথা ব্রাজিলের। কিন্তু বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কাছে ঘরের মাঠের কোপাটা শুধুই রোমাঞ্চের উপলক্ষ নয়। কোপা তাদের কাছে দুশ্চিন্তারও। কোপা আমেরিকা যদি কোপাভাইরাসে রূপ নেয়, এই টুর্নামেন্টে যদি দেশের করোনা সংক্রমণ বাড়িয়ে দেয়, এমন চিন্তাগুলোই এতদিন চেপে বসেছিল খোদ ফুটবলারদের মনে। এখন করোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা পাশে রেখে ব্রাজিল প্রস্তুতি নিচ্ছে কোপা নিয়ে। ব্রাজিল কোপা মিশনের শুরুতেই পাচ্ছে ভেনেজুয়েলাকে। গত বছর নভেম্বরে ভেনেজুয়েলাকে ১-০তে হারানো ব্রাজিলের জন্য শুরুর চ্যালেঞ্জটা খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়।

২০১৯ সালে সর্বশেষ আসরে ব্রাজিলকে খেলতে হয়েছিল মূল তারকা নেইমারকে ছাড়াই। চোট তাকে ছিটকে দিলেও ব্রাজিল ঠিকই ঘরের সমর্থকদের হতাশ করেনি। কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়েকে টাইব্রেকারের হারানোর পর তিতের দল সেমিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে হতাশায় ডোবায় ২-০ গোলে জিতে। আর তারা পেরুকে হারায় ৩-১ ব্যবধানে। কোপা আমেরিকা আদতে ব্রাজিলের জন্য ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ছাড়া কিছু নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত