সৌদি আরবে অবস্থানরত মুসলিমদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার জনকে এবার পবিত্র হজ পালনের সুযোগ দেবে সরকার। গতকাল শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ পালনে সৌদি আরব যান সোয়া লাখের বেশি বাংলাদেশি। এবারও ৬০ হাজারের বেশি মানুষ হজব্রতের জন্য প্রাক-নিবন্ধন করেছেন।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে এসপিএ বলেছে, ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন, শুধু তাদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার জনকে এবার হজের সুযোগ দেওয়া হবে। সৌদি সরকার বলছে, হজে আসা মানুষদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে হজ শুরু হবে।
হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সেক্রেটারি হিশাম আবদুল মোমেন সাঈদ আরব নিউজকে বলেন, ‘ওমরাহর মতো মসজিদুল হারামে হাজিদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে এ বছর গ্রুপভিত্তিক সময় নির্ধারণ করা হবে। ইতামারনা অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন করে মসজিদুল হারামে নামাজ ও কাবা তাওয়াফের সুযোগ পাবেন হাজিরা।’
হাজিদের শারীরিক অবস্থার সার্বক্ষণিক তথ্য নিতে থাকবে অ্যাপটি। ফলে কেউ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারীর কারণে গত বছর বিদেশ থেকে হজযাত্রী সৌদি আরব যাননি। তবে সেখানে অবস্থানরত সীমিত সংখ্যক সৌদি নাগরিক ও বিদেশি নানা বিধিনিষেধের মধ্যে হজের সুযোগ পান।
গত বছর হজের অনুমতি পেয়েছিলেন ১০ হাজারের মতো। অথচ প্রতি বছর হজ পালন করেন প্রায় ২৫ লাখ মানুষ, যাদের ২০ লাখের বেশি বিদেশ থেকে যান। এ থেকে প্রতি বছর ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার আয় হতো সৌদি সরকারের।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশটি ২০২০ সাল নাগাদ ওমরাহ ও হজের জন্য আসা মুসল্লিদের সংখ্যা ২ কোটিতে উন্নীত করতে চেয়েছিল। আর ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৩ কোটিতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল তারা। এতে ২০৩০ সাল নাগাদ শুধু হজ থেকেই ৫০ বিলিয়ন রিয়াল (১৩ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার) আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল দেশটি।
