ডিপিএলের খেলায় মাঠে দু’দফা স্টাম্প আছড়ে ফেলার মতো অসদাচরণের দায়ে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ৫ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে মোহামেডান অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। শাস্তি মেনেও নিয়েছেন তিনি। কিন্তু সিসিডিএম শাস্তি আরোপের পরদিনই তা কমানোর আবেদন করেছে মোহামেডান।
তবে শাস্তি যারা দিয়েছে সেই সিসিডিএম বরাবর আবেদন করেনি মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। করেছে বিসিবি বরাবর। তাই সিসিডিএমের হাতে শাস্তি পুনর্বিবেচনা করার উপায় থাকছে না। সিসিডিএম সদস্য সচিব আলি হোসেন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘আমরা চিঠিটা পেয়েছি কিন্তু তা পাঠানো হয়েছে বিসিবি বরাবর। মোহামেডান কর্র্তৃপক্ষ বিসিবি সভাপতি বরাবর আবেদন করেছেন। তাই এটা আর আমাদের হাতে নেই বিসিবির সিদ্ধান্ত।’ এখন দেখার বিষয় বিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয়। সাকিবকে ছাড়া গতকাল এক ম্যাচ খেলে ফেলেছে মোহামেডান। আজ ব্রাদার্সের বিপক্ষে তাদের আরেক ম্যাচ।
বেইজ্জতি চরমে পৌঁছে গেছে : পাপন
এদিকে সাকিব কান্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। ‘আন্তর্জাতিকভাবে এ ঘটনা এত দেশে ছড়িয়ে গেছে যে বিদেশ থেকেও ফোন আসছে। এত দেশ থেকে ফোন আসছে যে আমি ফোন ধরছি না। বেইজ্জতি চরমে পৌঁছে গেছে। এগুলোর সমাধান না হলে ঘরোয়া লিগ খেলার কারণ দেখি না। লজ্জার চরম জায়গায় নিয়ে গেছে। সব শেষ করে দিয়েছে। আগেও হয়েছে কিন্তু এবার একদম চরম বেইজ্জতি। বাংলাদেশের বাইরের কেউ তো এসব সমর্থন করছে না। যা সমর্থন সব আমাদের দেশেই।’
সাকিবকে অসদাচরণের শাস্তির পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছেন পাপন। তিন দিন সময় নিয়ে কাল রিপোর্ট দেওয়ার কথা কমিটির। ক্ষুব্ধ পাপন বলেন, ‘আমার প্রথম কথা হলো যদি কারও ভাবনায় এরকম চিন্তা থাকে যে ঘরোয়া ক্রিকেটে এরকম হয় তাহলে খেলার দরকার কী? যতক্ষণ পর্যন্ত মীমাংসা না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত খেলার তো দরকার নেই। এসব খেলায় আগে সব সেটিং থাকে, তাহলে তো এই খেলার কোনো মানে হয় না। কেন আমরা খেলাব? তাও আবার কভিডের মধ্যে। যেখানে বায়ো-বাবলের জন্য ১ কোটি টাকারও বেশি বাড়তি খরচ করছে বোর্ড।’
আম্পায়ারিং নিয়ে কোনো ক্লাবই অভিযোগ করে না দাবি করে পাপন বলেন, ‘অধিনায়ক ও ম্যানেজারের কোনো অভিযোগ নেই। সিসিডিএম বলছে, কোনো ক্লাবের কোনো সমস্যা নেই। আম্পায়ারিং নিয়ে আগে অভিযোগ ছিল। ক্যামেরা লাগানোর পর তো এসব অভিযোগ বন্ধ হয়েছে। কেন তাহলে একটা ঘটনার পরই এবার বলা হচ্ছে। আবার যেহেতু আম্পায়ারিং নিয়ে কথা উঠেছে আমি জানতে চাই ক্লাবগুলো থেকেই তাদের কোনো অভিযোগ আছে কি না।’
