রাজধানীর গুলশান থেকে লাশ উদ্ধার হওয়া বহুল আলোচিত মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে এখনো ভিসেরা প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছে তদন্ত সংস্থা গুলশান থানা পুলিশ। ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এই মামলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে এই মৃত্যুর সঙ্গে মুনিয়ার বোন ও মামলার বাদী নুসরাত জাহান তানিয়া ও চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের সম্পর্ক থাকা অমূলক নয়। কারও কারও মতে, মোসারাতের মৃত্যুর জন্য নুসরাত ও শারুন কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।
তদন্তকারীরা বলছেন, মুনিয়ার মৃত্যুর আগে সর্বশেষ কথা হয় নুসরাতের সঙ্গে। মুনিয়া বিভিন্ন বিষয়ে নুসরাতের সহযোগিতা চান। কিন্তু তিনি সহযোগিতা না করায় নুসরাত হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে মুনিয়া যখন নুসরাতকে আসার অনুরোধ করেন তখন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করেন। নুসরাত কেন দেরি করেন? বা তিনি জানতেন যে মুনিয়ার সঙ্গে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। যার ফলে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেন, মুনিয়া যতবারই নুসরাতের সঙ্গে কথা বলেছেন তার পরপরই নুসরাত কথা বলেন শারুনের সঙ্গে। এখান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে কি মুনিয়ার সর্বশেষ অবস্থা ও অবস্থানের বিষয়, তার হতাশার এবং বিক্ষুব্ধ থাকার বিষয়টি নুসরাত জানতেন? এসব বিষয়ে পরামর্শ নেওয়র জন্য নুসরাত বারবার শারুনকে ফোন করেন। মৃত্যুর তিন দিন আগে মুনিয়াকে নুসরাত বলেন যে, ‘একটি কাজ করলে তিনি অনেক টাকা পাবেন। কী সেই কাজ? ওই কাজ এমন ছিল যেন কাউকে ফাঁসাতে হবে? যা করতে মুনিয়া অস্বীকৃতি জানায়। সে জন্যই কি মুনিয়াকে মানসিক চাপ তৈরি করা হয়, যার জন্য তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন অথবা রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
তদন্তকারীরা বলছেন, মুনিয়া যাতে নুসরাতের কথা মতো সব কিছু মেনে নেয় সে জন্য তাকে নিয়মিত নেশাজাতীয় দ্রব্য দিতেন নুসরাত। এই মাদকের কারণে মুনিয়া কখনো স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারত না এবং সবসময় নুসরাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
তদন্তকারীদের সামনে আরেকটি বিষয় আসে তা হচ্ছে, ‘নুসরাত যে ফ্ল্যাট ভাড়া করে মুনিয়াকে থাকতে দিয়েছিলেন সেখানে কারা গিয়েছিল বা কারা যাতায়াত করত। সেখানে কি শারুন বা তার লোকজন গিয়েছিল? ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছেন মুনিয়ার বড় ভাই সবুজ। ওই ভবন ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি। এ রকম ধারণা অমূলক নয় যে, শারুনের লোকজন মুনিয়ার বাসায় গিয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয়ে তদন্তকারীরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত গত ২৬ এপ্রিল মুনিয়ার বোন ও ভগ্নিপতির ভাড়া করা বাসা থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ। ওই রাতেই গুলশান থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই ঘটনার কয়েক দিন পর গত ২ মে মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা মামলা করেন। দুটি মামলা মাথায় রেখে মুনিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
