লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন (পাপুলের আসন) স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে এ আদেশ দেয়। ২১ জুন এ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। এ আসনটিতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, যিনি কুয়েতের একটি আদালতে দ-িত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে তিনি কুয়েতের একটি কারাগারে বন্দি।
নির্বাচন স্থগিত চেয়ে গত ৮ জুন হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন ও এইচএম সানজিদ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে এ আসনে উপনির্বাচনে কোনো বাধা নেই।’ এর আগে লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা ও সেখানে উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শহিদ ইসলাম পাপুলের বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং পাপুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহাদাত হোসেনের করা একটি রিট আবেদন গত ৮ জুন খারিজ করেছিল হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে গত ২৮ জানুয়ারি কুয়েতের একটি আদালত পাপুলকে চার বছরের কারাদ- ও ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার অর্থদন্ড দেয়। নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দন্ডিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাপুলের আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এরপর ৪ মার্চ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ওই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
