৭৯ বছর বয়সী টম ব্রাউন নর্থ ক্যারোলিনায় দুই একর জায়গার ওপর গড়ে তুলেছেন বিশাল আপেল বাগান। বাগানে প্রায় ১২০০ প্রজাতির আপেল গাছ রয়েছে। দুই শতক আগে হারিয়ে যাওয়া আপেল গাছ সংগ্রহ করার জন্য প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আপেল শিকারি টম ব্রাউনকে নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
আপেল শিকারি
পূর্ব আমেরিকার একটি রাজ্যের নাম অ্যাপেলেশিয়া। জায়গাটির নামের সঙ্গে আপেল নামের সদৃশ রয়েছে। এই জায়গায় আপেল নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করছেন এক ব্যক্তি। অন্যরা যেখানে আপেল বাগান করে ব্যবসায়িক খাতে ভূমিকা রাখছেন, সেখানে এই ব্যক্তি বাগান করলেও অন্যদের থেকে অনেকটা আলাদা। কারণ তাকে ঠিক বাগানি বলা যায় না, বলতে হবে আপেল শিকারি। প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রায় ১২০০ আপেলের প্রজাতি পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি। এই আপেল শিকারির নাম টম ব্রাউন। ৭৯ বছর বয়সী কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অবসর নিলেও আপেল নিয়ে কাজ করা বন্ধ করেননি। তার কাছে অদ্ভুত নামের অনেক আপেলের সংগ্রহ আছে। যেমন ব্ল্যাক ওয়াইনস্যাপ, ক্যান্ডি স্ট্রাইপ, রয়্যাল লেমন, র্যাবুন বাল্ড, ইয়েলো বেলফ্লাওয়ার, নাইট ড্রপার পেয়ার ইত্যাদি।
অ্যাপেলেশিয়ার হারিয়ে যাওয়া আপেল খুঁজে বের করতে প্রায় ২৫ বছর ধরে খোঁজ চালিয়ে গেছেন টম। এত বছরে তার ঝুলিতেও যুক্ত হয়েছে অসংখ্য অভিজ্ঞতা। তার সব অভিজ্ঞতা এসে জড়ো হয়েছে নর্থ ক্যারোলিনার ক্লেমনসে নিজের তৈরি দুই একরের বাগানে। যেখানে তিনি লাগিয়েছেন প্রায় ১২০০ প্রজাতির আপেল গাছ, যার মধ্যে অন্তত ৭০০টি একদম বিরল প্রজাতির। এর মধ্যে কয়েকটির এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হয় না, কয়েকটি গাছকে প্রাচীন গাছ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। টমের বাগানে এমন কয়েকটি আপেল গাছ আছে যেগুলো তার দাদা এমনকি দাদার দাদার আমলের।
প্রাচীন সময় থেকে শুরু করে আপেলের হাজার প্রজাতি হয়তো এখনো আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন এতগুলো প্রজাতি একসঙ্গে একত্র করা। বেশির ভাগ স্থানীয় ব্যক্তির কাছে ৮০ বা ৯০ সালের দিকের প্রজাতি আছে। প্রতি বছর এসব গাছ টিকে থাকা, বেড়ে ওঠা, পোকা দমন ও বিভিন্ন রোগ থেকে সেরে ওঠার ক্ষমতা হারায়। টম চেষ্টা করেছেন এগুলোর প্রতিটি ঘটনাকে উল্টে দিয়ে বর্তমানের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে।
সংগ্রহের শুরু
ঐতিহ্যবাহী আপেল সম্পর্কে টম তেমন কিছু জানতেন না। এই প্রেক্ষাপট বদলে যায় ১৯৯৮ সালে, যেদিন তিনি কৃষকদের ঐতিহাসিক এক বাজারে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি ঝুড়িতে তিনি কয়েকটি অদ্ভুত চেহারার আপেল দেখেন। আপেলগুলোর রং ছিল উজ্জ্বল সবুজ, হলুদ রেখাযুক্ত, সূর্যাস্তের গোলাপি আভা আর কালচে বেগুনি। কিছু আপেল বরই সাইজের, আবার কিছু বলের মতো দেখতে। তাদের নামগুলোও অদ্ভুত। যেমন বিটার বাকিংহাম, হোয়াইট উইনটার জন, আরকানসাস ব্ল্যাক, বিলি স্পার্কস সুইটনিং। একেকটির স্বাদ আবার একেক রকম।
এই মার্কেটেই টম খোঁজ পেয়েছিলেন জনাথন নামক আপেলের। এর রং দেখতে রোজ ওয়াইন আর স্বাদ ছিল মাংসের মতো। রাস্টি কোট নামের যে আপেল পেয়েছিলেন সেটি দেখতে ছিল নাশপাতির মতো, খেতে মধুর মতো লাগত। ইটারস গোল্ড নামে আপেলের স্বাদ ছিল আঙুরের মতো। জয়ফল আর সাদা গোলমরিচের মিশ্র স্বাদ ছিল গ্রিমস গোল্ডেন আপেলে।
আপেল বিক্রেতা ও বাগানি মরিস মার্শালের সঙ্গে টমের খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সে সময়। তিনি তাকে নানাভাবে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন। মার্শাল মূলত ১৭০০ ও ১৮০০ সালের সময়ের নানা ধরনের আপেল বিক্রি করতেন। তার বিক্রি করা সব আপেলের ১৯৫০ সাল নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পর্বতে বসবাসকারী বয়স্কদের কাছ থেকে আপেলগাছের কলম চেয়ে নিয়ে আসতেন মার্শাল। দু-তিনটি ধরন পেয়েছিলেন পুরনো বাগান নষ্ট করে ফেলার সময়। মার্শালের কাছে টম জেনেছিলেন, পুরো অ্যাপেলেশিয়া ভালো করে ঘুরলে আরও কয়েকশো জাতের হারিয়ে যাওয়া আপেলের সন্ধান পাওয়া সম্ভব। এ কথাটি টমের মনে গেঁথে যায়। টম বলেন, ‘মার্শালের বলা এই কথাটুকু আমার সঙ্গে রয়ে যায়। আমি রীতিমতো ভাবতে বসে যাই। তখনই প্রথম মনে হয়, আজ থেকে ৫০-১০০ বছর আগের আপেল খেতে কেমন ছিল? কেমন হয় যদি সেগুলোর স্বাদ মানুষের সামনে নিয়ে আসি? আবার তৎক্ষণাৎ মনে হয়, শুনতে যতটা ভালো মনে হচ্ছে, কাজটা তত সহজ হবে না। কারণ মজার স্বাদের আপেলগুলো যদি বিলুপ্ত হয়ে গিয়ে থাকে? তখন কীভাবে সামনে আনব সেগুলোকে? ব্যাপারটা এক রকম অসম্ভব মনে হতে লাগল। কিন্তু একবার যখন ভেবেছি, তখন সিদ্ধান্ত নিলাম মাঠে নেমেই দেখি কী হয়। শুরু করলাম অ্যাপেলেশিয়ার ঐতিহাসিক সব আপেল নিয়ে লেখাপড়া। যতই জানলাম ততই বিস্মিত আর উৎসাহী হচ্ছিলাম।’
টমের বাগান খোঁজার কাজটাকে গোয়েন্দাগিরি বললেও খুব একটা ভুল হবে না। বিভিন্ন মানুষ, নানা এলাকায় ঘুরতে হয়েছিল তাকে এজন্য। শেষ পর্যন্ত তার এই গোয়েন্দাগিরিই তাকে ১৮৫৯ সালের কাছাকাছি সময়ের প্রাচীন একটি বাগান খুঁজে পেতে সাহায্য করে। বাগানের নাম ছিল অ্যান্তেবেলাম। নর্থ ক্যারোলিনার ফ্রাঙ্কলিনের একটি ক্যাটালগে তিনি বাগানটি নিয়ে পড়ছিলেন। এই বাগান খোঁজার জন্য তিনি স্থানীয় একজন বাগানমালিকের সাহায্য নেন। তিনি গাইড হয়ে টমকে সাহায্য করেন। দুদিন তারা প্রতিটি বাড়িতে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন আপেলগাছের খোঁজ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত একজন বয়স্ক নারী তাদের জানান গভীর বনের ভেতর একটি প্রাচীন আপেলগাছ আছে। টম তখনই আপেলগাছের কাছে যাননি। অপেক্ষা করছিলেন ফলের মৌসুমের জন্য। পরিকল্পনা ছিল গাছে ফল ধরলে যেন সহজেই গাছ চেনা যায়। এই অপেক্ষার সময়ে প্রাচীন জুনালুসকা গাছের বিভিন্ন ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করলেন। দুই শতাব্দী আগে স্মোকি পর্বতে চেরকি ইনডিয়ানরা এই আপেলের চাষ করতেন। ১৯ শতকের শুরুর দিকে এই ফলের নামকরণ করা হয়। পুরনো দিনের বাগানমালিকরা জানান, দক্ষিণ অংশে একসময় এই আপেল বেশ জনপ্রিয় ছিল। ১৯০০ সালের দিকে হারিয়ে যায় প্রাচীন এই জুনালুসকা আপেল। টম এই আপেলের নাম শোনার পর ২০০১ সাল থেকে এর সন্ধান শুরু করেন। গাছটি সরাসরি সামনে দেখার পর সিদ্ধান্ত নিলেন এই গাছের কলম করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের বাগানে জায়গা করলেন দুই শতক আগে হারিয়ে যাওয়া জুনালুসকার জন্য।
আপেল চিনেছেন যেভাবে
আপেল শিকারির আপেল চিনতে গিয়ে কয়েকটি ধাপ পার করতে হয়েছে। মার্শাল প্রথমে টমকে শিখিয়েছেন বয়স, সাইজ অনুসারে কীভাবে আপেল বাছাই করতে হয়। এরপর গাছের ক্লোন করা, কলম করা, গাছের পরিচর্যা করা। বিলুপ্ত হওয়া আপেলের প্রজাতি, সেগুলো চাষের স্থান, গাছ এখনো টিকে আছে কি না এসব বিষয়েও টমকে জানিয়েছিলেন মার্শাল।
পুরনো বাগানের ম্যাপ দেখে সেখানকার এলাকাগুলোতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলা, ফল উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চিঠি লেখা, আগের বাগানমালিক ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে হয়েছে টমকে। উদ্ভিদবিষয়ক ইতিহাসবিদরা টমকে প্রাচীন বাগান এঁকে জায়গা চিহ্নিত করতে এবং আপেলের প্রজাতি বুঝতে সাহায্য করেছেন। টমের শুরুর দিকের গবেষণা ছিল নর্থ ক্যারোলিনার ব্রুশি পর্বতে। এখানে ১৯০০ সালের দিকে বাণিজ্যিকীকরণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১০০টি বাগান ছিল। পুরনো আপেলগাছ নিয়ে পড়তে গিয়ে পত্রিকা ঘেঁটে এসব তথ্য তিনি বের করেছেন। কাজ করতে গিয়ে অনেক মানুষ তাকে ফোন করেও নানাভাবে সহযোগিতা করেছে। ৮০ ও ৯০ শতকের দিকে নিজেদের আপেল বাগান ছিল এমন ছোটবেলার সঠিক তথ্য জানিয়েছেন অনেকে।
কয়েক বছর এসব তথ্য নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শিকার করার পর্যায়ে চলে যায়। প্রথমে তিনি গাছ নিয়ে যতটুকু সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরে জায়গা বুঝে বাগান ছিল সেসব এলাকায় স্থানীয়দের কাছে চলে যেতেন। বয়স্ক কাউকে না কাউকে তো পেতেনই, আবার গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন এমন মানুষও মিলে যেত। সব তথ্য একসঙ্গে করে স্থানীয় বাজারে চলে যেতেন আরও খুঁটিনাটি বিষয়ে জানতে। সবাইকে যদি বুঝিয়ে বলা যেত তিনি আসলে কী জানতে চাচ্ছেন, সবাই তাকে সাহায্য করত। বছরে প্রায় ৩০ হাজার মাইলেরও বেশি তাকে ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে আপেল সংগ্রহের জন্য।
অ্যাপেলেশিয়ায় বাগান স্থানান্তর
মুসকিংগাম ইউনিভার্সিটির আমেরিকান ইতিহাসের প্রফেসর ও ‘জনি অ্যাপেলসিড অ্যান্ড দি আমেরিকান অর্চার্ড’ বইয়ের লেখক উইলিয়াম কেরিগ্যান বলেন, ‘১৯০৫ সালে আমেরিকায় বাণিজ্যিকীকরণের জন্য ১৪ হাজার প্রজাতির আপেল নিয়ে বাগান তৈরি করা হয়েছিল। এদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল অ্যাপেলেশিয়ায়। ঔপনিবেশিকতার কারণেই আপেলের এত বৈচিত্র্য পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় ওই এলাকার পানি পান করা নিরাপদ ছিল না। যার কারণে নানা অসুস্থতা দেখা দিত। গাঁজন (জুসকে অ্যালকোহলে পরিণত করা) প্রক্রিয়ায় তৈরি করা পানীয় পান করা হতো। অন্যদিকে দামি হওয়ায় ওয়াইন আমদানি করাও কষ্টসাধ্য, সঙ্গে দেশীয় কিছু পতঙ্গ আঙুর নষ্ট করে দিত। সবদিক বিবেচনা করে আপেলের চাষ করা সহজ ছিল। আপেল থেকে সহজেই বিয়ার তৈরি করা যেত। এ ছাড়া অ্যাপেল সিডারের প্রচলনও তখন থেকেই চালু হয়। জরুরি পানীয় হিসেবে সিডারের চাহিদা বাড়তে থাকে। ১৭০০ সালের মধ্যদিকে পূর্ব উপকূলের প্রায় সব বাড়িতেই আপেলের বাগান ছিল। আপেলের এই উদ্ভাবনী গতিকে আরও বাড়িয়ে দেয় ভার্জিনিয়ার ব্লু রিজ পর্বতের আশপাশের এলাকা। উঁচু এলাকার এসব আপেল গাছে গ্রীষ্মের আর্দ্রতার সময়, এমনকি বর্ষা ঋতুতেও আপেলের খুব ভালো ফলন হতে থাকে।’
১৮০০ সালের শুরুর দিকে, শেনানদোয়াহ ভ্যালি আমেরিকার সবচেয়ে বড় আপেল চাষের স্থান হয়ে ওঠে। বাণিজ্যিকভাবে বাগানগুলো পূর্ব অ্যাপেলেশিয়ার দিকে স্থানান্তরিত করা হয়। নিরলসভাবে নানা ধরনের গবেষণা চলতে থাকে। কষযুক্ত এক ধরনের আপেলে প্রাচীন সিডার প্রয়োগ করে ‘টালিয়াফেরো’ নামে নতুন একটি প্রজাতির আপেল উদ্ভাবন করা হয়। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিডার আপেল ছিল এটি। এই আপেল সরাসরি খেয়েছেন আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন। সেই শতকে অবশ্য সিডারের চেয়ে আপেলের প্রজাতি নিয়ে বেশি কাজ হচ্ছিল। টম বলেন, ‘অ্যাপেলেশিয়ান কৃষক ও গৃহবাসীর জন্য এই বাগানগুলো ছিল টিকে থাকার ও ভালো খাবারের ব্যবস্থা করার অন্যতম উপায়।’
এই এলাকার অধিবাসী সবাই বাগান বিশেষজ্ঞ ছিলেন। বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন ঋতুতে, বিভিন্ন স্বাদের আপেল চাষ করতে পারতেন তারা। আপেল সংগ্রহের সেরা সময় ছিল জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। এ ছাড়া পুরো বছরে কমবেশি আপেল সংগ্রহ করা যেত। শীতের সময় পাওয়া যেত নরম চামড়ার এক ধরনের আপেল। এগুলো বেশি সংগ্রহ করতেন উদ্ভিদবিদ ও লেখক-কবিরা। অন্যান্য ধরনের আপেলের ব্যবহার ছিল ফ্রাই, বেকিং, ভিনেগার বানাতে, ডিহাইড্রেশন রুখতে, এমনকি খাবার তালিকায় অনেকের শুধু আপেলই থাকত।
অ্যাপেলেশিয়ান ফুড সামিটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং জনপ্রিয় শেফ ট্র্যাভিস মিল্টন বলেন, ‘বাগানের রাজমুকুট বলা হতো আপেলকে। প্রতিবেশীকে ভিন্ন প্রজাতির আপেল উপহার দিতে পারলে লোকে গর্বিত হতো।’
হারিয়ে যাওয়া বাগান
অ্যাপেলেশিয়ান ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে থাকে শহর এদিকে প্রতিস্থাপনের কারণে। নানা ধরনের ফ্যাক্টরি, খাদ্যব্যবস্থা আগের চেয়ে বেশি করপোরেট হয়ে যাওয়া এসব বাগানের ওপর বেশি আঘাত করে। দূরের এলাকায় পৌঁছানোর জন্য সময়ের আগে আপেল পাকিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৫০ সালের দিকে, ছোট বাগানিদের ব্যবসা থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। মিল্টনের দাদা নিজেদের গরুর ফার্ম বাঁচানোর জন্য ভার্জিনিয়ার আপেল বাগান বিক্রি করে দেন। পরে সেখানে কয়লা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এভাবে ধীরে ধীরে বাগান ধ্বংস হতে থাকে।
১৯৯০ সালের দিকে, কমতে কমতে আমেরিকার বাণিজ্যিকীকরণের জন্য গরে তোলা বাগানে আপেলগাছের সংখ্যা নেমে আসে ১০০-তে। এর মধ্যে মাত্র ১১টি প্রজাতি ৯০ শতাংশ দোকানে বিক্রির জন্য পাঠানো হতো। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার প্রজাতির আপেল বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
টম বলেন, ‘এসব তথ্য শোনার পর থেকে নিজের কাছে খারাপ লাগা শুরু হয়। প্রায় আড়াইশ বছর আগের ঐতিহ্য এক নিমেষে হারিয়ে গেছে। অথচ একসময় এসব গাছই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখত। এভাবে গাছগুলোকে মরে যেতে দেখে মনে হচ্ছিল এদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব কারও তো নেওয়া উচিত। মার্শাল ঠিক বলেছিলেন। অ্যাপেলেশিয়ায় এখনো পুরনো দিনের বেশ কিছু গাছ বেঁচে আছে। অবসরের পর আমি শখ থেকেই তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলাম।’ টমের অভিজ্ঞতা একজন বিজ্ঞানীর গবেষণা করার মতো। এ বিষয় নিয়ে কাজ করার কারণে গ্রাম্য অ্যাপেলেশিয়ানবাসীর কাছে নতুন নতুন অনেক তথ্য সামনে এসেছে। একটি পুরো সম্প্রদায়ের সামনে অজানা অনেক তথ্য তার মাধ্যমে উন্মোচিত হওয়ায় টম নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করেন।
বর্তমানে জর্জিয়া, দক্ষিণ ও উত্তর ক্যারোলিনা, ক্যানটেক, টেনেস, ভার্জিনিয়া, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড ও পেনসিলভেনিয়ায় টমের বাগান থেকে গাছের ক্লোন করে নিয়ে চাষ করা হয়। বছরের বিভিন্ন সময়কে তিনি আপেল সংগ্রহ, গাছের পরিচর্যা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে কলম বিতরণ, বার্ষিক এক হাজার চারা বিক্রি করার কাজে ভাগ করে নিয়েছেন। বর্তমানে দেশজুড়ে তার কাজ সমাদৃত হচ্ছে নানাভাবে।
