আড়াই মাসে কম শনাক্ত ভারতে

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ০১:২২ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবল থেকে বের হয়ে আসতে থাকা ভারতে টানা আট দিন ধরে দৈনিক শনাক্ত এক লাখের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার ৭৫ দিনের মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে কম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন ভারতে ৬০ হাজার ৪৭১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এপ্রিলের প্রথম দিকে দেশটি জুড়ে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে শুরু করে। ৬ মে ২৪ ঘণ্টায় ৪ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে দৈনিক শনাক্তের বিশ্বরেকর্ড করে দেশটি। এরপর থেকে রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করার পর সোমবার আড়াই মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হলো।

সবশেষ এ তথ্য নিয়ে ভারতে করোনায় সংক্রমিত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৮১ জনে। মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩১।

ভারতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ৫ শতাংশের নিচে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আগের ২৪ ঘণ্টায় এই হার ছিল ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।

দেশটিতে গত রবিবার শনাক্ত হয় ৭০ হাজার ৪২১ জন। মারা যায় ৩ হাজার ৯২১ জন। শনিবার শনাক্ত হয় ৮০ হাজার ৮৩৪ জন। মারা যায় ৩ হাজার ৩০৩ জন। শুক্রবার শনাক্ত হয় ৮৪ হাজার ৩৩২ জন। মারা যায় ৪ হাজার ২ জন। বৃহস্পতিবার ৯১ হাজার ৭০২ জন শনাক্ত হয়। মারা যায় ৩ হাজার ৪০৩ জন। বুধবার শনাক্ত হয় ৯৪ হাজার ৫২ জন। মারা যায় ৬ হাজার ১৪৮ জন। গত মঙ্গলবার ৯২ হাজার ৫৯৬ জন শনাক্ত হয়। মারা যায় ২ হাজার ২১৯ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারস শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আসছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পরই রয়েছে ভারত। ভারতের পর রয়েছে ব্রাজিল। আর মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরই রয়েছে ভারত।

ভারতে সংক্রমণ ‘বিস্ফোরণের’ জন্য করোনার ভারতীয় ধরনকে (ডেল্টা) অনেকাংশে দায়ী করা হয়।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানলে প্রায় দুই মাস আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করে। এখন সংক্রমণ কমতে থাকায় কোথাও কোথাও সতর্কতার সঙ্গে বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। এ তালিকায় দিল্লি ও হরিয়ানা রয়েছে। একই সঙ্গে করোনার সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউয়ের ব্যাপারেও রাজগুলো প্রস্তুত হচ্ছে।

দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ২১ জুন থেকে এ লক্ষ্যে সব রাজ্য সরকারকে বিনামূল্যে টিকা সরবরাহ করা হবে। করোনা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ১ মে থেকে সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে (১৮ বছরের ঊর্ধ্বে) টিকাদানের কর্মসূচি হাতে নেয় ভারত। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২৫ কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১০৮ কোটি মানুষকে টিকা দিতে চায় ভারত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত