মুজিব আদর্শে বিশ্বাসীরা তিনটি করে গাছ লাগান : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ০২:০৮ এএম

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সবাইকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুজিব আদর্শে যারা বিশ্বাস করেন তাদের প্রত্যেকে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কৃষক লীগ আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সবাই তিনটি করে গাছ লাগান; একটি হচ্ছে বনজ, একটি ফলদ ও একটি ভেষজ। কারণ গাছ আপনাদের আর্থিকভাবে মূল্য দেবে, পরিবেশ রক্ষা হবে এবং সেই সঙ্গে পুষ্টির জোগানও দেবে।’

এ ছাড়া গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সব সময় চেষ্টা ছিল আধুনিক জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এই বিশেষ বাহিনীও সেভাবে প্রশিক্ষিত হবে এবং তাদের দক্ষতাও সব সময় বৃদ্ধি পাবে।’

কৃষক লীগের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের প্রতিটি সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীসহ সবার প্রতি আহ্বান জানাব মুজিব আদর্শে যারা বিশ্বাস করেন প্রত্যেকে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগাবেন। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সবার প্রতি আমার এই আহ্বান থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে, জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে এই বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমাদের সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ আরও সবুজ হোক, আরও সুন্দর হোক এবং আমাদের পরিবেশ যেন ঠিক থাকে। পরিবেশ এবং প্রতিবেশ ঠিক রেখে এই দেশের সার্বিক উন্নয়ন আমরা করতে চাই। সেই উন্নয়নের জন্যই আমাদের এই পদক্ষেপ।’

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল গণভবন আঙিনায় দুটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম উপস্থিত ছিলেন।

এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একেক সময় একেক ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের উৎপত্তি হয়। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ধরনটাও পাল্টায়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা যেমন আধুনিক জীবনমান উন্নত করতে পারি, তেমনি আবার অপরাধীরাও; যারা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত, তারাও কিন্তু এই প্রযুক্তিই ব্যবহার করে নতুনভাবে অপরাধ করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি আমরা ব্যবহার করছি। তাতে জীবন গতিশীল হচ্ছে, কর্মক্ষেত্র বিস্তৃত হচ্ছে। আমাদের সুযোগ দিচ্ছে। সেই সঙ্গে অপরাধীরাও সুযোগ পাচ্ছে, জঙ্গিরাও সুযোগ পাচ্ছে।’

বিশেষ এই বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিতই দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সুযোগ থাকবে।

এসএসএফের সদস্যদের দক্ষতার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী নয়, বিদেশি অতিথিরা আসলেও তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এটা একটা কঠিন দায়িত্ব। তবে আমি ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানাই, যখনই যিনি (অতিথি) এসেছেন আমাদের এসএসএফ সদস্যরা এত চমৎকারভাবে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন, তাদের (বিদেশি অতিথি) প্রত্যেকেই প্রশংসা করেছেন। সবাই এসএসএফ সদস্যদের দক্ষতা এবং আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে এসএসএফের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এসএসএফের পক্ষ থেকে ১০০ গৃহহীন পরিবারের জন্য ২ কোটি টাকার একটি ব্যাংক ড্রাফট প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান।

মুজিববর্ষে এসএসএফের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান সম্পাদিত ‘মুজিব-বাঙালি-বাংলাদেশ’ নামে একটি ই-বুক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং সরকার ঘোষিত অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি নিরাপত্তা বাহিনী গঠিত হয়। পরবর্তীকালে এই বাহিনীকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) হিসেবে নতুন নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশ সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে প্রেষণে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এসএসএফ গঠিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত