কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে আমানত বেড়েছে ৪%

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ১১:২৫ পিএম

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় খোলা কৃষকদের ১০ টাকার ব্যাংক হিসাবে আমানত বাড়ছে। গত মার্চ শেষে সার্ভিস চার্জবিহীন এসব ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যা গত ডিসেম্বরের তুলনায় ৩.৮১ শতাংশ বেশি। গত ডিসেম্বর শেষে কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে আমানত ছিল ৪০৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে কৃষকদের খোলা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়ে হয় ৯৮ লাখ ৩৩ হাজার ২৮১টি। যা এর আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ১.০৮ শতাংশ বেশি। গত ডিসেম্বর শেষে কৃষকদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৭ লাখ ২৮ হাজার ৫১৮টি। জানা গেছে, কৃষকদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা আরও আগে ১ কোটি ছাড়ালেও গত বছরের সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ৬ লাখের বেশি ব্যাংক হিসাবের তথ্য কম দেখায়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার প্রতিবেদনে কৃষকদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য কমিয়ে ৯৬ লাখ ৯৮ হাজারে নামিয়ে আনে।

জানা গেছে, কৃষকদের মতো পোশাককর্মী, অতিদরিদ্র, সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা প্রাপ্তদের ১০, ৫০ ও ১০০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে এ ধরনের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ২ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ছাড়ায়। এসব হিসাবে মোট আমানত জমা ছিল ২ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল কৃষকদের জমা করা আমানতের হার ৪২ শতাংশ।

ব্যাংকভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সার্ভিস চাজবিহীন এসব ব্যাংক হিসাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হিসাব রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে। মোট হিসাবগুলোর ২৭ শতাংশই এই ব্যাংকটির হাতে। কৃষি ব্যাংকে এ ধরনের হিসাব প্রায় ১৯ শতাংশ, অগ্রণীতে প্রায় ১৫ শতাংশ, জনতা ব্যাংকে ১১ শতাংশ এবং রাকাবে প্রায় ১০ শতাংশ হিসাব রয়েছে।

হিসাব খোলার মতো আমানত সংগ্রহের দিক দিয়েও শীর্ষে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। এ খাতের মোট আমানতের প্রায় ৪১ শতাংশ সোনালী ব্যাংকে জমা আছে। অগ্রণী ব্যাংকে এ ধরনের আমানত ১৮ শতাংশ, কৃষি ব্যাংকে ৯ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকে ৮.৫৯ শতাংশ এবং ব্যাংক এশিয়ায় ৫.৬৭ শতাংশ আমানত রয়েছে। এই পাঁচটি ব্যাংকের হাতে মোট আমানতের ৮২ শতাংশ জমা রয়েছে।

সার্ভিস চার্জবিহীন এসব হিসাবধারীকে ঋণ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল রয়েছে। এই তহবিল থেকে গত মার্চ পর্যন্ত ৫৬ হাজারের বেশি হিসাবধারীকে ২১৭ কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হয়েছে। আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৯ শতাংশ। এসব হিসাবগুলোতে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্সও পাঠাতে পারছেন তাদের স্বজনরা। গত মার্চ পর্যন্ত এ ধরনের ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি হিসাবে ৫০২ কোটি টাকা রেমিট্যান্স ছাড় করেছে ব্যাংকগুলো। জানা গেছে, ২০১০ সালে প্রথম কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত