স্বামীর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহ

যৌনকর্মীকে পিটিয়ে ক্ষতে মরিচ গুঁড়া দিলেন নারীনেত্রী

আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ০১:৪৮ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে পরকীয়া সন্দেহে রেহেনা বেগম (৩৫) নামে এক যৌনকর্মীকে পিটিয়ে জখম করে ক্ষতস্থান ও গোপনাঙ্গে মরিচ গুঁড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘অসহায় নারী ঐক্য কল্যাণ সমিতির’ সভানেত্রী ঝুমুর বেগমসহ কয়েকজনের নামে গোয়ালন্দঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন ছলে বাড়িওয়ালি, লিলি বাড়িওয়ালি, আলেয়া বাড়িওয়ালি, দুলালী ও পারভীন।

গতকাল বুধবার গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রেহেনা বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, গত রবিবার রাত ১১টার দিকে নিজ ঘর থেকে তাকে ঝুমুর বেগমের লোকজন তুলে নিয়ে যায়। এরপর অসহায় নারী ঐক্য কল্যাণ সমিতির কক্ষে আটকে রেখে বেধড়ক মারপিট করে। এক পর্যায়ে তারা ক্ষতস্থান ও গোপনাঙ্গে শুকনো মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। নির্যাতনের পুরো ঘটনা নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেন ঝুমুর। এক পর্যায়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগের পর মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হন রেহেনা বেগম।

তিনি অভিযোগ করেন, ঝুমুরের সন্দেহ তার স্বামী ইউপি সদস্য জলিল ফকিরের সঙ্গে আমার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং ঝুমুরকে আমি তাবিজ-কবজ করেছি। এজন্য আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে। ঝুমুর আগেও মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার সব ভাড়াটিয়া মেয়েকে নিজের কব্জায় নিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, ‘রেহেনা বেগমের শরীরে নির্যাতনের জখম রয়েছে। তবে দুদিন পরে হাসপাতালে আসায় মরিচের আলামত মেলেনি। তিনি আগের থেকে ভালো আছেন।’

অভিযোগ অস্বীকার করে ঝুমুর বেগম বলেন, ‘রেহেনার স্থানীয় ও সাভারে দুই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে প্রায়ই তার ঝামেলা হয়। সোমবার রাতেও তাদের মধ্যে মারামারি হয় এবং হয়তো সে আহত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রেহেনা পল্লীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এজন্য সে জেলও খেটেছে। নিজের অপরাধ ঢাকতে পরিকল্পিতভাবে আমার নামে মিথ্যাচার করছে।’

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, রেহেনা বেগম লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত